চিত্তরঞ্জনে হকি খেলোয়াড় খুনে নয়া মোড় নেপাল পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, আদালতে আত্মসমর্পণ মূল অভিযুক্তের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শেষ পর্যন্ত পুলিশের ক্রমাগত চাপের মুখে নতি স্বীকার। চিত্তরঞ্জনের জাতীয় স্তরের হকি খেলোয়াড় তথা রেলকর্মী এরিক লাকড়া খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আয়ুষ ভগৎ বৃহস্পতিবার আসানসোল আদালতে আত্মসমর্পণ করে। গত ৮ মার্চ চিত্তরঞ্জনের ওভাল ময়দান এলাকায় ঘটে যাওয়া নৃশংস খুনের ঘটনার পর থেকেই ফেরার ছিল আয়ুষ। জানা গেছে, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে রাজ্য ছাড়িয়ে এমনকি দেশ ছেড়ে নেপালেও আশ্রয় নিয়েছিল।গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সন্ধ্যায় চিত্তরঞ্জন রেল স্টেশন এলাকা থেকে এরিক লাকড়াকে অনুসরণ করতে শুরু করে কয়েকজন যুবক। ওভাল ময়দান সংলগ্ন এলাকায় তাঁর গাড়ি আটকে বচসা শুরু হয়।














অভিযোগ, সেই সময় শুভম পাণ্ডে নামে এক যুবক এরিক লাকড়াকে লক্ষ্য করে সজোরে ‘ লাথি’ মারে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়। এই কাণ্ডের পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে চিত্তরঞ্জন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায়।
চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন অভিযুক্ত আয়ুষ ভগৎ, শুভম পাণ্ডে ও রাজ খানকে শনাক্ত করে। ঘটনার পরেই অভিযুক্তরা বিহার ও রাজস্থানে পালিয়ে যায়। রাজস্থানের কোটায় আয়ুষের মামাবাড়িতে পুলিশ হানা দিলেও অল্পের জন্য সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারি এড়াতে আয়ুষ সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে নেপালি সিম কার্ড ব্যবহার করে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজের অবস্থান গোপন রাখছিল সে।
কোটায় থাকাকালীন আয়ুষের মা ও মামাকে পুলিশ কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। পুলিশের এই লাগাতার তল্লাশি ও চাপে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় মূল অভিযুক্ত।বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণের খবর পেয়েই চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশের তরফে আয়ুষকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এই মামলায় পুলিশ আশাবাদী, আয়ুষকে জেরা করে এই ঘটনার বাকি দুই অভিযুক্ত শুভম পাণ্ডে ও রাজ খানের অবস্থান জানা সম্ভব হবে এবং এই খুনের প্রকৃত কারণ ও রহস্য উন্মোচিত হবে।দীর্ঘদিন ধরে এই খুনে অভিযুক্তরা অধরা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, এই আত্মসমর্পণের ফলে তাতে কিছুটা প্রলেপ পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু একজন নয়, এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। তা, না হলে আন্দোলন করা হবে।

