দুর্গাপুরে হোটেল চত্বর রণক্ষেত্র ! কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ কাঠগড়ায় বিজেপি
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* সোমবার বিকেলে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি নামী হোটেল চত্বরে তাণ্ডব চালালো একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দিকে। সোমবার বিকেলের এই ঘটনায় সিটি সেন্টার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী, বাদ যাননি কেউই এই হামলার হাত থেকে । এমনকি মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানি এবং হোটেল থেকে লক্ষাধিক টাকা ও সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক লুটের অভিযোগও উঠেছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। হামলার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ আসে। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও।হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার তুহিনশুভ্র পালের দাবি, সোমবার বিকালে হোটেলের একটি হলে যখন কর্মীরা মাসিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।














তখনই অতর্কিতে জনা চল্লিশের একটি দল ভেতরে ঢোকে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল তারা হয়তো অতিথি হিসেবে খেতে এসেছেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় অবাধ ভাঙচুর ও মারধর।আক্রান্ত ম্যানেজারের বয়ান অনুযায়ী, হামলাকারীরা বারবার ‘বিজেপি’-র পরিচয় দিচ্ছিল। তিনি বলেন, ওরা আসতেই আমি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে ফোন করি। নেত্রী মণীষা মাইতি আমাকে জানান, দল থেকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পুলিশ আসবার আগেই ওরা হোটেলের কর্মীদের নির্বিচারে মারতে শুরু করে। আমার কানের পর্দা ফেটে গেছে।এদিকে, এদিনের এই ঘটনায় সরাসরি প্রাক্তন এক লিজ হোল্ডারের নাম উঠে আসে।

এই ঘটনার সময় তিনি আক্রমনের নেতৃত্বে ছিলেন বলে হোটেল কর্মী অর্পণ সরকার ও সুব্রত রায় জানিয়েছেন।এই ঘটনার মূলে রাজনৈতিক রেষারেষি নাকি অন্য কোনো ব্যবসায়িক বিবাদ, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। তবে, এই ঘটনার পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মিতা মাহাতো নামে এক বিজেপি নেত্রী ( যিনি আগে এই হোটেলের ইজারার দায়িত্বে ছিলেন) এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই এই তাণ্ডব চলেছে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অন্যদিকে, দুর্গাপুর পুলিশের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের ঘনিষ্ঠ নেতা সুমন্ত মন্ডল বলেন, ঐ হোটেল নিয়ে অনেক ইতিহাস আছে। হোটেলটি বর্তমানে যারা চালাচ্ছেন তাদের তা চালানোর অধিকার আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। তবে, তিনি এদিনের হামলা চালানো নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।পুলিশ জানায়, ঠিক কি কারণে এই ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হোটেল কতৃপক্ষের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

