ASANSOL

পশ্চিম বর্ধমানে শিক্ষা ও প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের জেলাশাসককে ছয় দফা দাবির স্মারকলিপি

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিক্ষা বিভাগ, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সরব হয়েছে। মঞ্চের তরফে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলমকে ৬ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ও নেতৃত্ব সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে বহু কর্মচারী, শিক্ষক এবং সমাজকর্মী হয়রানি, ভয় এবং অবিচারের শিকার হয়েছেন।

এদিন ভাস্কর ঘোষ কাঁকসা ব্লকের কর্মী শুভঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আরজি কর ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ‘নবান্ন চলো’ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য এই জেলার কাঁকসা ব্লক অফিসের কর্মচারী শুভঙ্কর বন্দোপাধ্যায়কে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও তাঁকে ছয় দিন জেলে রাখা হয় এবং পরে বরখাস্ত করা হয়। পুনর্বহালের জন্য আদালতের আদেশ সত্ত্বেও, সেই আদেশ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তার পরিবার মানসিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা জানিয়েছে।

একইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ ও অন্যান্য সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, পাণ্ডবেশ্বরে আইসিডিএসে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষা বিভাগে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা করা হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। অভিযোগ সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি পুলিশের তরফে।

তারা অধ্যক্ষ ধর্মেন্দ্র প্রসাদের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ভাস্কর ঘোষ বলেন, বেনাচিতি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ ধর্মেন্দ্র প্রসাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা অভিযোগপত্র ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, নয় বছর পরেও কোন অভিযোগ করা হয়নি। তাঁরা মিড ডে মিল মামলায় চাপ, হুমকি এবং মিথ্যা অভিযোগের অভিযোগ করেছেন। তার বাসভবনে হামলা এবং স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। একইভাবে, আরো এক স্কুলের শিক্ষক কালিমুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার, শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের হয়রানি, পড়ুয়াদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ফি আদায় এবং মিড ডে মিল প্রকল্পে অনিয়মসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে।

অভিযোগ রয়েছে যে, পশ্চিম বর্ধমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করা হয়েছে।তারা আরো বলেন, আরটিই আইন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে প্রাইভেট টিউশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন যে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্য আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন। শিক্ষক-ইন-চার্জ এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদের মাধ্যমেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভের জন্য বাইরের রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন।

যা বিদ্যালয়গুলোতে ভয়, বৈষম্য এবং রাজনৈতিক চাপের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।এদিন জেলাশাসকের কাছে সব অভিযোগের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় বা প্রশাসনিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভাস্কর ঘোষ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতারা। জেলাশাসক তাদেরকে সব অভিযোগ প্রশাসনের তরফে তদন্ত করে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *