ভোট পরবর্তী হিংসা, হুমকি, মারধর সহ একাধিক অভিযোগ, গ্রেফতার বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সহ ৬
বেঙ্গল মিরর, বারাবনি ও আসানসোল, মনোজ শর্মা ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারাবনি ব্লকের বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও এক সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করলো বারাবনি থানার পুলিশ। ২০২১ সালের পোস্ট পোল ভায়োলেন্স বা ভোট পরবর্তী হিংসা , ২০২৬ সালে ভোটের আগে আতঙ্ক ছড়ানো হুমকি , মারধর সহ বিভিন্ন অভিযোগে শুক্রবার রাতে এই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের নাম সুকুমার সাঁধু। তিনি বারাবনি থানার ইটাপাড়ার বাসিন্দা। গ্রেফতার হওয়া সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম দেবাশীষ গোপ। তার বাড়ি বারাবনির ভানোড়াতে। বাকি চারজনের নাম হলো উত্তম মন্ডল, দীনবন্ধু মাজি, সাজিদ খান ও শিবেন ঘাঁটি। শনিবার সকালে ধৃতদেরকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছে।














জানা গেছে, এই ৬ জন বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বারাবনি ব্লকের সভাপতি অসিত সিংয়ের ঘনিষ্ঠ। আরো জানা গেছে, সিভিক ভলেন্টিয়ার দেবাশীষ গোপ দীর্ঘদিন ধরে বারাবনি থানায় কর্মরত রয়েছে। কিন্তু ডিউটি করতো না। তাকে ডিউটির জন্য বলা হলে, সে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের নামে হুমকি দিতো। ধৃত চারজন কয়লা কারবার, তোলাবাজি সহ সমাজ বিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।এই প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার জেলা নেতা সূরজ সিং বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২০২১ সালের পর থেকে এরা গোটা বারাবনি এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দলের কর্মী ও নেতাদের অত্যাচার করে বাড়ি ছাড়া করিয়েছে। এখন বিজেপি সরকার গঠন করার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তারপর বারাবনি থানার পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। এদিকে, বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গ্রেফতারি ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, সব অত্যাচারের হিসাব নেওয়া হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, যারা বিজেপি সমর্থকদের ঘরছাড়া করেছেন, মহিলাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন, চাষের জমিতে আগুন দিয়েছেন কিংবা সামাজিক বয়কট করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের “খাতা খোলা হবে”। তিনি বলেন, এতদিন অনেকেই ভাবতেন তাঁদের মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তাই কেউ কিছু করতে পারবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। অতীতের সমস্ত অভিযোগ সামনে আনা হবে।

