ASANSOL

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তৎপর ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর কাঁকসায় অবৈধ বালিঘাটে পুলিশকে নিয়ে অভিযান

*বেঙ্গল মিরর, কাঁকসা, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বালিতে তো ভয়ঙ্কর ! আবার অবৈধ বালিঘাট বন্ধের সুযোগ নিয়ে ৮ হাজারের বালি ১৬ হাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করার চক্রান্ত চলছে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরই অবৈধ বালির কারবার রুখতে বালিঘাটে অভিযানে নামে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। শুক্রবার সকাল থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে কাঁকসার অজয় নদীর বালিঘাটে শুরু হয় জোরদার অভিযান। কাঁকসার বিদবিহারের নয়া কাঞ্চনপুর, শ্রীরামপুর, দুবরাজপুর কলোনি-সহ একাধিক ঘাটে অভিযান চালান কাঁকসা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক মঞ্জু কাঞ্জিলালের নেতৃত্বে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা ও কাঁকসার মলনদিঘী ফাঁড়ির পুলিশ।

অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে এই এলাকায় অজয় নদীতে একাধিক অবৈধ বালিঘাট গজিয়ে উঠেছিল। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন পাচার হতো বালিভর্তি ট্রাক ও ডাম্পার। বিভিন্ন জায়গায় বালি মজুদ করে রেখে ট্রাক্টারে করেও পাচার হতো। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হতেই অবৈধ কারবারে নাগাম টানতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালি, পাথর ও কয়লা পাচার রুখতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না।

আর সেই কারণেই এখন জেলায় জেলায় চলছে লাগাতার অভিযান। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরেও অবৈধ বালির কারবার রুখতে প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।প্রসঙ্গতঃ, দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বালি ও পাথর ব্যবসায় সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি এবং ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বালি ও পাথর ব্যবসার মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব লুট হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিলো , শুধু বীরভূমের পাথর শিল্প থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব লিকেজ হয়েছে। তাঁর দাবি, আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আসত, বর্তমানে তা বেড়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে তা ৫ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তাঁর কথায়, প্রতিদিন পাঁচ কোটি টাকার লিকেজ চলতো। মাসে দেড়শো কোটি, বছরে আঠারোশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব বর্ধমানে বালির সিন্ডিকেট “ভয়ংকর আকার” নিয়েছিল। অভিযোগ, অবৈধ ঘাট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত দামে বালি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছিল। বাঁকুড়া সোনামুখির উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৮ হাজার টাকার বালি ১৬ হাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।

যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।”এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে বালির নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়া হবে এবং অবৈধ ঘাটগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও কাটমানি পুরোপুরি বন্ধ করতেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *