ASANSOL

ব্যবসার আড়ালে অবৈধ বালি কারবারের অভিযোগ লাউদোহার বাসিন্দাদের, থানায় বিক্ষোভ

*বেঙ্গল মিরর, লাউদোহা, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। লাগাতার অভিযানের পরে বন্ধ হয়েছে সমস্ত রকমের অবৈধ বালি, কয়লা ও লোহার কারবার। এরপরও যেন হুঁশ ফেরেনি অবৈধ কারবারিদের। দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার এলাকায় বৈধতার আড়ালে চলছে বালির অবৈধ কারবার বলে অভিযোগ ।দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বালির কণা বিন্যাস কারখানা। নদী থেকে বালি এনে সেই বালিগুলিকে বিভিন্ন উপায় বালির কণা বিন্যাস করে বালির সূক্ষ্ম রূপ তৈরি করে বস্তা বন্দী করে সেগুলি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সমস্ত রকম বৈধ কাগজপত্র মেনেই কাজ করছি দীর্ঘদিন ধরে।

তবে এই বৈধতার আড়ালে যে অন্ধকার দিক রয়েছে তার ছবি সামনে এলো বৃহস্পতিবার সকালে। দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বেশ কিছু যুবক এইরকম বালি বোঝাই একটা গাড়ি আটকায় বুধবার। তারা গাড়ি চালকের কাছ থেকে গাড়ির বালির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চায়। চালকের কাছে থাকা কাগজ দেখে চক্ষু চড়ক গাছ সবার। সেই কাগজ ১০ ফেব্রুয়ারির। আর বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ১০ জুন। সেই চালানে পরিষ্কার লেখা বালি যাবে ট্রাক্টরে করে। অথচ যে গাড়ি আটকানো হয়েছে, তা ১৬ চাকার।

জেলা পরিষদের এই রাস্তায় ১০ টনের বেশি গাড়ি যাতায়াত করবে না, এমনটাই প্রশাসনিক নির্দেশ বলে জানান গ্রামবাসীরা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বালি বোঝাই ৩০ থেকে ৩৫ টন ওজনের গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে অনবরত চলছে। যার ফলে ভেঙেছে রাস্তা বিপদের আশঙ্কা বেড়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এইরকম অন্যায় ভাবে বালি বোঝাই গাড়ি আটকালে বালি কারবারীদের ছেড়ে উল্টে পুলিশ গ্রামবাসীদেরই চারজন যুবককে আটক করে।

অবিলম্বে ঐ যুবকদের ছেড়ে দিতে হবে এবং যেভাবে বৈধতার আড়ালে অবৈধ কাজ চলছে তা বন্ধ করতে হবে এই দাবি রেখেই এদিন সকাল থেকেই লাউদোহার ফরিদপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বহু যুবক।বালি ব্যবসায়ী সজল কান্তি দত্ত বলেন, তাদের এই এলাকায় রয়েছে অনেকগুলি ছোট ছোট বালির গ্রেডেশন ইউনিট বা বালির কণা বিন্যাস তৈরীর কারখানা। সমস্ত আইন-কানুন মেনেই আমরা ব্যবসা করি। তবে কেন ব্যাকডেটেড চালানে বালি চলাচল করছিল?

কেনই বা ১০ টন এর বেশি ওজন ভর্তি বালির গাড়ি এই রাস্তায় চলাচল করছিল ? তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে তিনি এ কথা স্বীকার করেন একসময় এই রাস্তা দিয়ে ১০ টনের বেশি বালির গাড়ি চলাচল করেছে।স্থানীয় বাসিন্দা চিরঞ্জিত রাউত নামে এক যুবক বলেন, বৈধভাবে কারবার চলুক তাতে তাদের আপত্তি নেই। আর এই কারবারের সঙ্গে গ্রামের বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে। তাই আমরা চাই না কারোর কর্মসংস্থান চলে যাক।

তবে বৈধতার আড়ালে অবৈধ কারবার বন্ধ হোক বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়ত ভারী বালির গাড়ি যাতায়াত করার ফলে ও রাস্তার অবস্থা দিন দিন জীর্ণ হয়েছে। খারাপ রাস্তা থাকা দরুন রাস্তায় বাস চলাচল প্রায় বন্ধ। গ্রামের বহু ছোট ছোট ছেলে মেয়ে গৌরবাজারে স্কুলে যায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অবিলম্বে এই রাস্তার উপর দিয়ে ভারী বালির গাড়ি যাতায়াত বন্ধ হোক। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ অবিলম্বে যাতে এর সুব্যবস্থা হয় সেটার উপর দৃষ্টিপাত করুক বলে দাবি গ্রামের বাসিন্দাদের। পুলিশ জানায়, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *