বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কোলিয়ারি কতৃপক্ষের নোটিশ / প্রতিবাদ আন্দোলনে উত্তাল রানিগঞ্জের খনি এলাকা
*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ইসিএলের কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষর বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারের আন্দোলনে উত্তাল হলো আসানসোলের রানিগঞ্জের অমৃত নগর এলাকা। হাজার এলাকাবাসী মহাবীর গ্রাম রক্ষা কমিটির আহ্বানে পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতি, ভিম আর্মি ও আদিবাসী কো-অর্ডিনেশন কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে চলে আন্দোলন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কয়েক মাইল রাস্তা জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। সেই মিছিল এসে শেষ হয় অমৃতনগর এজেন্ট কার্যালয়ে। এদিনের এই আন্দোলনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে জেলা সভাপতি ছিলেন।













বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে রানীগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারি খনি আবাসন এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।সাতদিন আগে এই নোটিশ কোলিয়ারি কতৃপক্ষের তরফে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহ জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানানো হয় সেই নোটিশে। জানিয়ে দেওয়া হয় ২১ দিনের মধ্যেই এই নোটিশ কার্যকর হবে। এই নোটিশের পরেই লাগাতার আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে সোচ্চার হয় মহাবীর গ্রাম রক্ষা কমিটি। জানা যায়, ৬ জুন রানিগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারির আবাসন এলাকার বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ নোটিশ দেওয়া হয়। যা দেখে সেখানে বসবাসকারী প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপরই লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তাল হলো অমৃতনগরে।
এদিন মহাবীর গ্রাম রক্ষা কমিটির কনভেনার সমীর কোড়ার সঙ্গে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গ বাউরী সমাজ শিক্ষা সমিতির রাজ্য সভাপতি সুমন্ত বাউরী, ভীম আর্মির সুশীল রুইদাস, আদিবাসী কো-অর্ডিনেশন কমিটির রাজু মাহালি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সভাপতি মনির শর্মা। এদিন সকলেই দাবি করেন, কোন মতেই এলাকার হাজারো বাসিন্দাদের আবাসনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বিচ্ছিন্ন করা যাবে না জলের সংযোগও। তাদের দাবি দীর্ঘ একটা সময় ধরে এখানে বসবাস করছেন তারা।
তাদের আগে বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। তাই হঠাৎ করেই সেই সব পরিষেবা থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তবে অতিরিক্ত ভাবে বিদ্যুৎ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনরূপ কোন রেয়াত করা যাবে না। যার মধ্যে তারা উদাহরণ স্বরূপ জানিয়ে দেন কোনরূপ হিটার ব্যবহার, ভারী কোন যন্ত্রাংশ চালানোর ক্ষেত্রে, টোটো রিচার্জ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎ তারা ব্যবহারের থেকে বিরত থাকবেন।
তবে কোন সাধারণ কাজে ব্যবহারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। এই সব বিষয় নিয়ে তারা প্রথমে এজেন্ট কার্যালয়ের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান। যেখানে তাদের বিক্ষোভকে সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এজেন্ট কার্যালয় ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ ও ইসিএলের নিরাপত্তা রক্ষীর বিশেষ দল। এদিন বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যরা এজেন্ট কার্যালয় পৌঁছে অমৃতনগর গ্রুপ অফ মাইনসের এজেন্ট দীপক খাউলের কাছে তাদের দাবি পত্র তুলে ধরেন। যেখানে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরে খনি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের দাবি পত্র গ্রহণ করেন।
পরে এজেন্ট বলেন, সাময়িকভাবে আমরা আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ বন্ধ রাখছি। আগামী দিনে এই দাবিপত্র ইসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আর তারপরই সেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ মতো আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তবে তার আগে কোনরূপ কোন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না। একই সাথে জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না বলে জানানো হয়। এদিনের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বরা দাবি করেন ইসিএলের সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের এলাকায় বসবাস করা সকলকেই জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী করা উচিত বলে দাবি তাদের। তবে এদিন বিক্ষোভে আসা হাজারো এলাকাবাসী দীর্ঘ একটা সময় তারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন জানতে পেরে খুশি হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগামী দিনে কোনরূপ কোন কড়া পদক্ষেপ কোলিয়ারি কতৃপক্ষের তরফে করা হলেই তারা তাদের আন্দোলন আরো বৃহত্তর আকার করা হবে।



