আসানসোলে প্রতি ১০০ মিটার অন্তরে বসবে ডাস্টবিন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ময়লা ফেললে জরিমানা: অগ্নিমিত্রা পাল
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* গোটা বাংলার পুর বা শহর এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নতুন এক কর্মসূচি হাতে নিলো রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। মুলতঃ যন্ত্র দিয়ে পরিষ্কার করা ম্যানহোল ব্যবহারের উপর জোর দিতে বৃহস্পতিবার থেকে আসানসোলে ‘অ্যাড মাই বিন’ প্রকল্প শুরু হলো। এদিন সকালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোলের সার্কিট হাউস ‘অ্যাড মাই বিন’ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন। এই অভিযান চলাকালীন, তিনি রাজ্য জুড়ে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ব্যস্ত এলাকাগুলিতে প্রতি ১০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসানো হবে। পরে তা গোটা বাংলায় হবে।মন্ত্রী বলেন, বাজার, রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, স্কুলের আশেপাশের এলাকা এবং রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই ডাস্টবিনগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কারের দায়িত্ব এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি অংশীদার এবং সংস্থাগুলি বহন করবে। তাতে পুরসভা ও পুরনিগমের উপর চাপ কমাবে। সংস্থাগুলিকে এই ডাস্টবিনগুলিতে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করার অনুমতিও দেওয়া হবে।অগ্নিমিত্রা পাল বলেন , রাজ্য সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তা ও জনবহুল স্থানে যারা আবর্জনা ফেলবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করবে। সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জরিমানা ব্যবস্থা চালু করা হবে।













তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মানুষের হাতে প্রায় তিন মাস সময় আছে। জনবহুল স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় মানুষ যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে। এমন অভিযোগ খুবই সাধারণ। এই পরিস্থিতিতে এই অভিযানটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হবে।মন্ত্রী জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ব্যস্ত এলাকাগুলিতে দিনে দুবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে ‘নির্মল বন্ধু’ এবং ‘নির্মল সাথী’ কর্মীদের কাজে লাগানো হবে।তিনি সাফাই কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি কালীপাহাড়ি এলাকায় সাফাই কর্মীদের দস্তানা এবং জুতো ছাড়াই নর্দমা ও ম্যানহোল পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে, পরিষ্কার করার জন্য কারও ম্যানহোলের ভিতরে যাওয়া উচিত নয়। রাজ্য সরকার ম্যানহোল পরিষ্কারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করছে, যাতে এই কাজটি সম্পূর্ণভাবে যন্ত্রের মাধ্যমেই করা যায়।তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, সাফাই কর্মীদের জন্য দস্তানা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনার উদ্দেশ্যে বিগত বছরগুলিতে জারি করা টেন্ডারের সুবিধাগুলি আদৌ কর্মীদের কাছে পৌঁছেছে কি না। মন্ত্রী জেলা প্রশাসন এবং আসানসোল পুরনিগমকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার ও আসানসোল পুরনিগমের সচিব।


