ঘাসফুলে মহাভাঙন ! ‘আসল’ তৃণমূলের দাবিতে মুখোমুখি দুই শিবির, বাড়ছে অস্তিত্ব সংকট
*বেঙ্গল মিরর, কলকাতা, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনী পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সেই অস্থিরতা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একই সঙ্গে দু’টি পৃথক শিবির নিজেদেরই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে।নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে নেতৃত্বের ধরন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক সাংগঠনিক সংস্কারের দাবি তোলেন। ধীরে ধীরে সেই অসন্তোষই বিদ্রোহের রূপ নেয় এবং দলীয় অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠে।পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল নেতা ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি’-র বিরোধিতা করে ‘সম্মিলিত নেতৃত্ব’-এর পক্ষে সওয়াল করেন।














সোমবার ঐ শিবির নিজেদের জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করে এবং অরূপ রায়কে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে। পাশাপাশি তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও দাবি জানায়।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করে পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সভানেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৪ জন বিধায়ককে নিয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দেয় যে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এখনও তাদের হাতেই রয়েছে।ফলে এখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে কি কার্যত দু’টি তৃণমূল কংগ্রেস সমান্তরালভাবে কাজ করবে ?
একদিকে মমতা-অভিষেকের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত-অরূপ রায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিদ্রোহী গোষ্ঠী। উভয় পক্ষই নিজেদেরকে ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত দুই শিবির নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও দলীয় নাম, প্রতীক এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধ তীব্র হলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সামনে পৌঁছতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন শিবির ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-র বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, তা নির্ভর করবে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং আইনি প্রক্রিয়ার উপর।
একসময় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা তৃণমূল কংগ্রেস আজ সম্ভবত তার সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি। ক্ষমতা হারানোর পর শুরু হওয়া অস্বস্তি এখন পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ভাঙনের আকার নিয়েছে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কোন তৃণমূল টিকে থাকবে, আর কোন তৃণমূল ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে?

