জামুড়িয়ার কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ , এলাকা রনক্ষেত্র
বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ৯ সেপ্টেম্বরঃ আসানসোলের জামুড়িয়া থানার ইকড়া শিল্প তালুকে একটি বেসরকারি কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বচসা ও সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে এলাকা রনক্ষেত্র হয়ে উঠে। বৃহস্পতিবার সকালেও গ্রামবাসীরা কারখানা গেটে বিক্ষোভ দেখালে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দু দফাতেই জামুড়িয়া থানার পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। গ্রামবাসী ও কারখানার নিরাপত্তা রক্ষী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করলেও, কোন পক্ষই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ কিছু করেনি। এদিন জানা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতে দু’পক্ষই কথা বলে গন্ডগোল মিটিয়ে নিয়েছে।














পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইকড়া শিল্প তালুকে একটি বেসরকারি কারখানার সামনে জামুড়িয়া থানার দামোদরপুরের বাসিন্দা ভোলা বাউরির একটি মুরগির মাংস বিক্রির দোকান আছে। অভিযোগ, বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ ঐ বেসরকারি কারখানার এক নিরাপত্তা রক্ষী মদ্যপ অবস্থায় ঐ মুরগির দোকানে আসে। সেখানে মাংস কেনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। সেই সময় ঐ নিরাপত্তা রক্ষী ভোলাকে মারধর করে। তার খবর পেয়ে ভোলার পরিবারের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দারা এলাকায় এসে কারখানা গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে। আরো অভিযোগ, সেই সময় কারখানার অন্যসব নিরাপত্তা রক্ষীরা গ্রামবাসীদের উপরে চড়াও হয়ে মারধর ও লাঠিচার্জ করে। যা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষোভ করা মহিলাদেরও মারধর নিরাপত্তা রক্ষীরা করে বলে গ্রামবাসীদের দাবি। খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় পুলিশ গিয়ে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাতের ঘটনার প্রতিবাদে দামোদরপুর গ্রামের মানুষেরা আবার ঐ বেসরকারি কারখানার গেটের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। তারা কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীদের অস্থায়ী আস্তানায় ভাঙ্গচুর করে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছান জামুড়িয়া থানার ওসি ও সার্কেল ইন্সপেক্টর। বেশ কিছুক্ষুনের চেষ্টায় পুলিশ দু’পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
কারখানার তরফে এই ঘটনা নিয়ে কিছু বলা না হলেও, কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার রাতে ঐ যুবক কারখানা গেটের সামনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি আটকাচ্ছিলো। তারই প্রতিবাদ করা হয়েছিলো।
এই ব্যাপারে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের এসিপি (সেন্ট্রাল) তথাগত পান্ডে এদিন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও, কেউ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ কিছু করেনি। যে যুবকের সঙ্গে কারখানা নিরাপত্তা রক্ষীর ঝামেলা হয়, সেও ঐ কারখানারই কর্মী। দুই পক্ষই বসে ঝামেলা মিটিয়ে নিয়েছে।

