Asansol জেলা হাসপাতালে ভর্তি ৮০ জন শিশু, পুনে পাঠানো হলো ১৮ জনের নমুনা, চিন্তা থাকলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, আতঙ্কের কিছু নেই, জানালো স্বাস্থ্য দপ্তর

ওয়ার্ডে বসানো হচ্ছে অক্সিজেনের পাইপ লাইন

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব ভট্টাচার্য ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত, আসানসোল, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সিজিনাল জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে। তবে আক্রান্তর সংখ্যা বুধবার বিকাল পর্যন্ত বেশী না হওয়ার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সামান্য উদ্বেগ বা চিন্তায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় আতঙ্কের কিছু নেই বলে বুধবার সন্ধ্যায় জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ ডাঃ ইউনুস জানান।

সিএমওএইচ ডাঃ ইউনুস

তিনি এদিন বলেন, জেলায় গত দুদিনে ২৪০ জনের মতো শিশু জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। বুধবার সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমেছে। অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অজানা জ্বর কারোর হয়েছে, কিনা, তা নিশ্চিত হতে স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে আমি জেলার ১৮ জন শিশুর সোয়াব ও ৫ জন শিশুর রক্তের নমুনা কলকাতায় স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছিলো। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, খারাপ কিছু নেই। তবুও তারা গোটা ব্যাপারটায় নিশ্চিত হতে ঐ ১৮ জনের নমুনা পুনের ভাইরোলজি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য এদিন পাঠিয়েছে।

তিনি এদিন আরো বলেন, আমি এদিন ভার্চুয়াল রাজ্য সরকারের ঠিক করে দেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সঙ্গে কথা বলেছি। সবকিছু তাদেরকে জানিয়েছি। বৃহস্পতিবারই তারা আমাদের শিশুদের চিকিৎসার জন্য গাইড লাইন পাঠিয়ে দেবেন। সেইমতোই চিকিৎসা করা হবে। তিনি জেলার মানুষদের আশ্বস্ত করে বলেন, অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাড়িতে বড়দের জ্বর হলে, শিশুদের কাছে যাবেননা। বিশেষ করে ২ বছরের বয়স কম এমন শিশুদের থেকে দূরে থাকাটাই ভালো। কোন কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান।

ডাঃ রুদ্রনীল লাহিড়ী


অন্যদিকে, জেলা হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রনীল লাহিড়ী এদিন বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রতি বছরই এই সময় সিজিন চেঞ্জের কারণে শিশুরা শিশুরা সিজিনাল ফিভার বা ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হয়। এই বছরে এখনো পর্যন্ত অসুস্থ হওয়ার সংখ্যাটা খুব একটা বাড়েনি। অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে একটু শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, গত দুমাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব শিশুর করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারোর রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।


অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৮০ জন ভর্তি রয়েছে। ৫০ বেডের ওয়ার্ডে এই সংখ্যাটা স্বাভাবিক বলে জেলা হাসপাতালের দাবি। এদিন জেলা হাসপাতালের আউটডোরে ১১০ জন শিশু চিকিৎসার জন্য এসেছিলো বলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়। গত ৪৮ ঘন্টায় জেলা হাসপাতালে কোন শিশুর মৃত্যু হয়নি।
প্রসঙ্গতঃ, জেলা হাসপাতালের শিশু বা পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে এই মুহুর্তে অক্সিজেনের পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। সেই কারণে শিশু ওয়ার্ডটিকে হাসপাতালের পুরনো ভবনের মেল মেডিক্যাল ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পাইপলাইন বসানোর কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপরেই শিশু ওয়ার্ডটি চালু হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *