ASANSOL

পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনে পণ্য পরিবহন থেকে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড সাফল্য

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশন মাইলস্টোন অর্জন করেছে পণ্য পরিবহন বা ফ্রেড লোডিং, রাজস্ব আদায় , ট্রাফিক আপগ্রেডেশন সহ বিভিন্ন বিভাগে। এর পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী সুবিধায় পরিকাঠামো উন্নতি করা হয়েছে। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে আসানসোল ডিভিশন ৪৫.৯১ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করে সর্বকালের সেরা সেরা অর্জন করেছে।
২০২২-২৩ সালে যা ছিলো ৪৫. ৫ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ০.৯ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ আর্থিক বছর পণ্য পরিবহন হয়েছিল ৪৩.২৫ মেট্রিক টন। এই বৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় ১৪.৩৫ শতাংশ বেশি । আসানসোল ডিভিশন কয়লা লোডিং বা পরিবহনে ৩৫.৭০ মেট্রিক টন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সবমিলিয়ে এই বৃদ্ধি
গত বছরের লোডিংয়ের তুলনায় ১৮.৭৬ শতাংশ ও রেলের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ২.১ শতাংশ বেশি। আসানসোল ডিভিশনে পণ্য ট্রেনের গড় গতি ২২.৫০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে পণ্য ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে ৭.৪৩ শতাংশেরও বেশি।



আসানসোল ডিভিশনে আয় হয়েছে ৪৬৫৩. ৪৭ কোটি টাকা। যা গতবারের চেয়ে ১২.৩০ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয় একবারে শুরুর সময় থেকে যে কোনো আর্থিক বছরে আসানসোল ডিভিশনে এটা সর্বোচ্চ আয়। যাত্রীদের থেকে রাজস্ব হিসেবে ৪৫৩.৮৬ কোটি আয় করেছে। যা গতবারের তুলনায় ৪৭.০২ শতাংশ বেশি।
বিদায়ী অর্থ বছরে আসানসোল ডিভিশনে টিকিট চেকিং বা পরীক্ষার আয়ে এক অনন্য নজীর হয়েছে। মোট আয় হয়েছে ২৭.৫৩ কোটি টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ২৬.৬৩ শতাংশ বেশি। ট্রাফিক ব্যবস্থার সুবিধার জন্য পুরানো অন্ডাল রুট রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেম ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিংয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। এরফলে অন্ডাল স্টেশন ও ইয়ার্ডে ট্রেন চলাচল সহজ করবে।

স্ক্র্যাপ বিক্রিতে ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পার করে গত আর্থিক বছরে আসানসোল ডিভিশন স্ক্র্যাপ বিক্রি করেছে ৩৫. ৫২ কোটি। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।যাত্রীদের সুবিধার জন্য ২০২২ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর জসিডিহি -ব্যাঙ্গালুরু সাপ্তাহিক সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেছেন রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। একইভাবে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই রেল মন্ত্রী শিয়ালদহ -সিউড়ি সেকশনে এক জোড়া নতুন মেমু এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। এর ফলে সিউড়ি ও আশেপাশের লোকেরা লাভবান হবেন। বিশেষ করে যারা সকালে কলকাতায় কাজে গিয়ে, রাতে বাড়িতে ফিরে যান। এই অর্থ বর্ষে আসানসোল ডিভিশনের মধুপুর, বিদ্যাসাগর, রানিগঞ্জ, ওয়ারিয়া, পানাগড়, জামতারা স্টেশনে মোট ৬ টি ফুটওভার ব্রিজ বা এফওবি তৈরি করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, বিদায়ী অর্থ বর্ষে আসানসোল ডিভিশনে ৬ টি ম্যানুয়াল লেভেল ক্রসিং গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ঐ জায়গায় নিচু উচ্চতার সাবওয়ে বা লো হাইট সাবওয়ে (এলএইচএস) তৈরি করা হয়েছে। এর ফল স্থানীয় বাসিন্দাদের পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, যখন লেভেল ক্রসিং গেট ট্রেন চলাচলের সময় বন্ধ থাকে। পূর রেলের আসানসোল ডিভিশনের অন্ডাল – সাঁইথিয়া সেকশনে ১০০ কিলোমিটার থেকে ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় উন্নীত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোহনপুর – হারলাটানর সেকশানে গত মার্চ মাসে পণ্য ও যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *