আসানসোলে পুলিশের গাড়ি দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানওতোর সিআইএসএফ নয়, চালক ৭ম ব্যাটেলিয়ানের, দাবি বিজেপি প্রার্থীর
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোলের রেলপাড় এলাকায় রবিবার রাতে ঘটে যাওয়া ” পুলিশ ” গাড়ির ধাক্কা মারার ঘটনা ঘিরে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক চাপানওতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই ঘটনা নিয়ে মিথ্যে তথ্য সামনে এলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনেছে। এই ঘটনার পরে প্রাথমিক ভাবে এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছিলেন, পুলিশের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিআইএসএফের জওয়ান।














কিন্তু, পরে জানা যায়, সিআইএসএফের কোন জওয়ান নয়, রাজ্য পুলিশের ৭ম ব্যাটালিয়নের চালক অমলেশ মণ্ডল ঐ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তিনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।প্রসঙ্গতঃ, রবিবার রাতে পুলিশ গাড়ি নিয়ে চালক অমলেশ মন্ডল আসানসোলের জুবিলি মোড় থেকে শীতলা হয়ে রেলপাড়ের ওকে রোড এলাকা আসে। বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে সেই গাড়ি এলাকায় একটি কবরস্থানেের দেওয়াল, একাধিক দোকান, অটো, টোটো ও পথচারী ধাক্কা মারে। এর ফলে এক শিশু সহ সাতজন আহত হন।
ঘটনার পরে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাতেই ঘটনার পরে এলাকায় আসেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বার্নপুর রোডে ডলি লজ সংলগ্ন দলের কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনায় চালকের পরিচয় কেন্দ্রীয় বাহিনী হিসেবে সিআইএসএফের জওয়ান হিসেবে ছড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা করেছে।
আসল তথ্য হলো, পুলিশের ঐ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাজ্য পুলিশের ৭ম ব্যাটেলিয়নের কর্মী। তিনি আরো বলেন, তৃণমূল বুঝতে পেরেছে যে তারা হারের মুখে। তাই হিংসা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। দুঃখজনক বিষয় হলো , ঘটনার পর আহতদের সাহায্য করার বদলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক দোষারোপে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
বিজেপি প্রার্থী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।অন্যদিকে জানা গেছে, পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনমুখী আবহে এই ঘটনা আবারও আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক দোষারোপ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

