আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক খুন মুল অভিযুক্ত দুজন সহ ধৃত ৩, মারধরেই মৃত্যু, দাবি পুলিশের তদন্তে
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোলের সেনরেল রোডের নব অনন্যা কমপ্লেক্সের বাসিন্দা কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা করলো আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। মৃত যুবকের স্ত্রী পিয়ালি চট্টোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই খুনের মামলা করা হয়েছে বলে শনিবার রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানিয়েছেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস। পাশাপাশি এই ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এফআইআরে নাম থাকা দুই মুল অভিযুক্ত সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ধৃত দুই মুল অভিযুক্তের নাম হলো শুভজিৎ মন্ডল ও রবিউল আলম। রবিবার ধৃত তিনজনকে আসানসোল আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোল শহরে।














২৪ এপ্রিল রাতে হওয়া এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। একইসাথে, পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিক তদন্তে রাজনীতির কোন যোগ খুঁজে পাইনি বলে জানানো হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ধৃতদের রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই নিয়ে পুলিশের তরফে খোলসা করে কিছু বলা হয়নি। পাশাপাশি ধৃতদের সঙ্গে পুরনো কোন অপরাধের যোগ আছে কিনা, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) বলেন, শুক্রবার রাতে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান থেকে মোটরবাইক করে সেনরেল রোডের নব অনন্যা,কমপ্লেক্সের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড়ে শুভজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। এরপরে সেনরেল রোডে রেলের পাঁচমুখী পুল পার হওয়ার পরে আবারও রফিউল আলমের সঙ্গে দেবদীপের কথা কাটাকাটি হয়।অভিযোগ, সেই সময় রফিউল আলম তাকে মারধর করেন। পরে দেবদীপ নিজের বাড়ি নব অনন্যা কমপ্লেক্সে পৌঁছালে সেখানেও শুভজিৎ মণ্ডল, রফিউল আলম ও তার সঙ্গীরা এসে তাঁকে মারধর করে।
সিসিটিভি ফুটেজেও সেই মারধরের ঘটনা ধরা পড়েছে বলে পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন। সেই মারধরের পরে দেবদীপ অচৈতন্য হয়ে পড়েন।তদন্তে আরো জানা গেছে, ঘটনার সময় দেবদীপ ও অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মনে করেন তিনি নেশার কারণে অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন। যে কারণে পরিবারের তরফে সঙ্গে সঙ্গে তার কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরের দিন ২৫ এপ্রিল শনিবার সকালে বাড়িতে শুয়ে থাকার পরে দীর্ঘ সময় জ্ঞান না ফেরায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।তিনি আরো বলেন, মৃত দেবদীপের স্ত্রী পিয়ালি চট্টোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জনের নাম এফআইআরে রয়েছে। অভিযুক্তদের অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এছাড়াও, আবাসনের গেটের নিরাপত্তারক্ষীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গেটের সামনে মারধর চললেও তিনি গেট খোলেননি। কেন এমন আচরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দেবদীপকে রাজনৈতিক কারণে খুন করা হয়েছে। শনিবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে আসানসোল দক্ষিণ পিপির সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভও দেখান আসানসোল উত্তর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি ও কর্মীরা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, ঠিক কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা খুঁজে বার করতে সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে। বাকি আর যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদেরকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

