রাজ্যে বন্ধ জেলা পরিষদ ও পুরনিগমের টোল ট্যাক্স আদায় রূপনারায়ণপুরে দাদাগিরি রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পালা বদল হওয়ার পরে রাজ্য সরকারের এক নির্দেশিকায় বর্তমানে জেলা পরিষদ এবং মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা পুরনিগমের অধীনে থাকা সমস্ত টোল ট্যাক্স আদায় সরকারিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবলমাত্র সঠিক নথিপত্র এবং বৈধ অনুমতি থাকলেই পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র মিলবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ি চালকেরা।রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার টোল প্লাজাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ উঠে, বেশ কিছু লোক সেখানে চড়াও হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।














সেই সময় থেকেই রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজাটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। টোল বন্ধ থাকায় হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন আন্তঃরাজ্য যাতায়াতকারী ট্রাক ও ছোট গাড়ির চালকেরা। তাদের কথায় রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর ফলে অহেতুক হয়রানি ও আর্থিক লোকসান থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। টোল প্লাজাটি সরকারিভাবে বন্ধ থাকলেও, স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা দুষ্কৃতী দল অর্থের লোভে মাঝেমধ্যেই সেখানে গাড়ি আটকে অবৈধভাবে টাকা তুলছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় নতুন করে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।এই অবৈধ টাকা তোলার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়।
তিনি বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে কোন ধরণের জুলুমবাজি বরদাস্ত করা হবে না।বিধায়ক আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত নতুন করে সঠিক ও স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। অবৈধভাবে কেউ টাকা তোলার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সাধারণ চালকেরা খুশি, অন্যদিকে অবৈধ তোলাবাজি রুখতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি চলছে। বর্তমানে রূপনারায়ণপুর সীমানায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অবৈধ অর্থ লেনদেন রুখতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

