ক্রেসারের দূষণে অতিষ্ঠ অবস্থা, সাতসকালে সালানপুরে কারখানার গেটে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
. *বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কারখানার অতিরিক্ত ক্রেসার মেশিনের দূষণে কার্যত নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে এলাকা। দূষণের জেরে নাজেহাল দশা সাধারণ মানুষের। এরই প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ক্রেসার সরানোর দাবিতে শুক্রবার সাতসকালেই বিজেপির ঝান্ডা হাতে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন আসানসোলের সালানপুরের দেন্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুরের গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় সালানপুরের রামদূত মেটলয়েস প্রাইভেট লিমিটেড কারখানা চত্বরে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানার এই মারাত্মক দূষণের বিরুদ্ধে গত ১৮ এপ্রিল কারখানার গেটের সামনে সরব হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা।














সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামবাসী, পুলিশ এবং পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষতিকারক ক্রেসারটি দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। ক্ষুদ্ধ এক আন্দোলনকারী বলেন, বৈঠকে ক্রেসার সরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদল এবং নির্বাচন মিটতেই ভোল বদলে ফেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ। হুট করেই ফের চালু করে দেওয়া হয় সেই দূষণকারী ক্রেসার।নির্বাচনের পর আচমকা কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই ক্রেসারটি পুনরায় চালু করে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা।
গ্রামের ওপর দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই এদিন সকাল সকাল গ্রামবাসীরা পতাকা হাতে আন্দোলনে নামেন।কারখানার গেটে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেয় কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ।পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, সোমবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করার চেষ্টা করা হবে।পুলিশের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের পর এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে আপাতত এদিনের মতো বিক্ষোভ তুলে নেন মহেশপুরের বাসিন্দারা।
তবে গ্রামবাসীদের সাফ হুঁশিয়ারি, সোমবারের মধ্যে যদি সমস্যা স্থায়ী সমাধান না হয় তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা।জানা গেছে, আন্দোলনকারীদের মধ্যে ১০জনের প্রতিনিধি দলকে কারখানা কর্তৃপক্ষ ডেকে পাঠায় আলোচনার জন্য। ছিলো সালানপুর থানার পুলিশ। সেই আলোচনায় সমাধান সূত্র বেরোয়।

