কুলটিতে পরিত্যক্ত ইসিএল কোয়ার্টার থেকে ত্রিপল, কম্বল সহ বিপুল সামগ্রী উদ্ধার কাউন্সিলরের দিকে বিজেপির অভিযোগ
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল পুরনিগমের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কুলটির রাধানগরের পৈইডি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইসিএল কোয়ার্টার থেকে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গি, চুড়িদার, সহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হলো। বুধবার সকালের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে একইসঙ্গে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে তৃণমূল কংগ্রেস ও ওয়ার্ড কাউন্সিলার রয়েছেন বলে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ।













যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ১০২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৌরভ মাজি।স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বিএমএসের জেলা সভাপতি গোবিন্দ মাজি বলেন, এদিন সকালে পৈইডি এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইসিএল কোয়ার্টারে সন্দেহজনকভাবে কিছু সামগ্রী মজুত থাকার খবর পেয়ে আমি দলীয় কর্মীদের নিয়ে সেখানে যাই। বাইরে থেকে তালাবন্ধ কোয়ার্টারের জানালা দিয়ে বড় বড় বস্তা দেখতে পাই। আমি সঙ্গে গোটা বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে জানাই ।
পরে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ এবং ইসিএল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কোয়ার্টারের তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়।বিজেপি নেতার অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে কম্বল, ত্রিপল, শিশুদের পোশাক, মহিলাদের শাড়ি এবং পুরুষদের ধুতি ও লু্ঙ্গি ছিল। যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। গোবিন্দ মাজির দাবি, শীতকাল পেরিয়ে গেলেও বহু গরীব মানুষের কাছে কম্বল পৌঁছয়নি। তাঁর অভিযোগ, সামগ্রীগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে গোপনে রাখা হয়েছিল।
এর সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলরের যোগ থাকতে পারে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও জানান তিনি।অন্যদিকে, ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার আধিকারিক এস. আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করি। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে কম্বলের পাঁচটি প্যাকেট, ত্রিপল, শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, চুড়িদার-সহ অন্যান্য পোশাক ছিল। সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রীর মালিকানা বা সেগুলি সরকারি কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি।এদিকে, বিজেপির অভিযোগের জবাবে কাউন্সিলর বলেন, আমি বিষয়টি ভিডিও মারফত দেখেছি। এই ঘটনায় আমার কোন ভূমিকা নেই।
যেখান থেকে এইসব সামগ্রী পাওয়া গেছে সেটি একটি পরিত্যক্ত ইসিএল কোয়ার্টার৷ আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কিভাবে ঐ সামগ্রী সেখানে এল, কারা রেখেছিল এবং কার নামে কোয়ার্টারটি বরাদ্দ রয়েছে, তা ইসিএল ও প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। কুলটি থানার পুলিশ সামগ্রীর উৎস, মালিকানা ও সেখানে মজুত রাখার কারণ খতিয়ে দেখছে।


