হাইজ্যাক হওয়া কনটেনারের সূত্র ধরে সাফল্য কাঁকসা পুলিশের ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার সামগ্রী, ধৃত দুই
*বেঙ্গল মিরর, কাঁকসা, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাঁকসা থানার পুলিশের জালে ধরা পড়ল ছিনতাই বা হাইজ্যাক হওয়া একটি কনটেনার। সেই কনটেনারের সূত্র ধরে ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার হলো ঐ কনটেনারে থাকা ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার সামগ্রী। এই কনটেনারটি করে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থা গার্মেন্টস্ সামগ্রী নিয়ে আসছিলো। মে মাসের শেষদিকে ঝাড়খণ্ডের পাথরোল থানা এলাকায় এই কনটেনারটিকে হাইজ্যাক বা ছিনতাই হয়ে যায়। কলকাতার ঐ বেসরকারি সংস্থার তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিলো আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দুর্গাপুরের কাঁকসা থানায়। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ ঐ কনটেনার ও সামগ্রী উদ্ধার করে।














পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মে মাসের শেষের দিকে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার গার্মেন্টস পোশাক নিয়ে কনটেনারের যাওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। কিন্তু কলকাতার ঐ সংস্থা জানতে পারে যে, কনটেনারটি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাঁকসা থানার অন্তর্গত বাঁশকোপায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত ৩ জুন এই ঘটনায় কলকাতার ঐ সংস্থা কাঁকসা থানায় বিষয়টি জানায়।কলকাতার ঐ সংস্থার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁকসা থানার পুলিশ শুরু করে তদন্ত। আর এই তদন্তে উঠে আসে কনটেনারের চালকের ভূমিকা। ঐ চালক ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। সেখানে পৌঁছে যায় কাঁকসা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় দুজনকে ঝাড়খন্ড থেকে গ্রেফতার করে কাঁকসা থানার পুলিশ।
এর পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের একটি গোডাউনে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার গার্মেন্টস সামগ্রী উদ্ধার করে পুলিশ । কাঁকসা থানা পুলিশের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলকাতার বেসরকারি সংস্থার মালিক ক্ষেমরাজ বড়াল। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার গার্মেন্টস সামগ্রী নিয়ে এই কনটেনারের গুরগাঁও থেকে কলকাতায় আসার কথা ছিলো মে মাসের শেষ দিকে । কিন্তু কনটেনারের চালক ঝাড়খণ্ডের বড়কাট্টা এলাকায় এক চালককে কনটেনারটি কলকাতায় পৌঁছে দিতে বলে। কিন্তু ঐ চালক তা করেনি। ঝাড়খণ্ডের পাথরোল এলাকায় কনটেনারটিকে ঐ চালক হাইজ্যাক করায়।
এরপরে সেখানে গার্মেন্টস সামগ্রী একটা গোডাউনে রাখে। তারপরে গত ১ জুন ফাঁকা কনটেনারটিকে দুর্গাপুরের কাঁকসা থানা এলাকায় ১৯ নং জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমরা তা গত ৩ জুন জানতে পারি। গোটা বিষয়টি কাঁকসা থানায় লিখিত ভাবে জানাই। তারপরে গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত করে পুলিশ ঝাড়খন্ড থেকে গার্মেন্টস সামগ্রী উদ্ধার করেছে।কাঁকসা থানার পুলিশ জানায়, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছিলো। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

