Wednesday, July 8, 2026

Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Wednesday, July 8, 2026
Bengal Mirror
ASANSOLBARABANI-SALANPUR-CHITTARANJAN

বিজেপি নেতা ও কর্মীদের আসায় উত্তেজনা দাবি আদায়ে সালানপুরে বেসরকারি কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন সময় চাইলো কতৃপক্ষ

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কোনরকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। নিজেদের অধিকারের লড়াই শ্রমিকেরা নিজেরাই লড়বেন। এই দাবিতেই কারখানা চত্বর থেকে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের তাড়িয়ে দিলেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। বুধবার সকালে সালানপুরের দেন্দুয়া এলাকায় সাকম্বরি গ্রুপের ‘এলোকুইন্ট’ কারখানার সামনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ।নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি, পর্যাপ্ত কর্মস্থলের সুরক্ষা, পিএফ , ইএসআই এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন এলোকুইন্ট কারখানার শ্রমিকেরা। আন্দোলনের শুরু থেকেই তাঁদের পাশে রয়েছেন শ্রমিক নেতা অমর মাহাতো।

এর আগে গত ২২ জুন একই দাবি নিয়ে কারখানার মূল ফটকের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন শ্রমিকেরা। সেই সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে দ্রুত সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। কর্তৃপক্ষের সেই আশ্বাসের পর সুরক্ষা, পিএফ ও ইএসআই সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দূর করা হলেও, সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি এখনো চালু করা হয়নি। আর এই মূল দাবিতেই এদিন সকালে আবার কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন শ্রমিকেরা।এদিন সকালে পরিস্থিতি বিবেচনা করে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আসেন কারখানা কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

কারখানার মূল গেটের সামনেই উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চলছিল। কিন্তু এই আলোচনা চলাকালীনই হঠাৎ সালানপুর এলাকা থেকে বেশ কিছু বিজেপি নেতা ও কর্মী সেখানে আসেন। বিজেপি নেতা ও কর্মীদের আসা মাত্রই সেখানে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি তাঁদের রুটি-রুজির লড়াই। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ তাঁরা মেনে নেবেন না। নিজেদের সমস্যা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা নিজেরাই মিটিয়ে নিতে সক্ষম।

এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হলে উত্তেজিত শ্রমিকেরা বিজেপি নেতাদের কারখানা চত্বর থেকে তাড়িয়ে দেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বিজেপি নেতারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা শুরু হয়। বৈঠক শেষে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মজুরি লাগু না করা হয়, তবে তাঁরা আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনে নামবেন।

এই প্রসঙ্গে শ্রমিক নেতা অমর মাহাতোর বক্তব্য “শ্রমিকদের হকের লড়াইয়ে আমি প্রথম দিন থেকেই তাঁদের পাশে আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকব। এই লড়াইয়ের জন্য যদি আমার প্রাণও যায়, আমি হাসিমুখে তা দিতে প্রস্তুত। এই আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক রং নেই, আর আমরা তা হতেও দেব না। শ্রমিকদের লড়াই শ্রমিকেরাই লড়বে।

আমার একমাত্র লক্ষ্য, শ্রমিকেরা যেন তাঁদের সমস্ত ন্যায্য অধিকার ও সুবিধা ফিরে পান। তিনি বলেন, আপাতত কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। ১৭ জুলাই পর্যন্ত দেওয়া কারখানা কতৃপক্ষের ডেডলাইনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই কারখানা চত্বরে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *