ASANSOL

ভাঙলো আসানসোল পুর বোর্ড সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিদায়ী মেয়রের হওয়ারই ছিলো, বললেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ৫ বছরের মেয়াদ শেষের আগেই মঙ্গলবার ভেঙে দেওয়া হলো আসানসোল পুরনিগমের বোর্ড। সরকারের পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আসানসোল পুরনিগমের বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায়। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিলো বলে জানালেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।বুধবার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে আসানসোলের বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, বোর্ড ভেঙে গেলেও নাগরিক পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে হয়।

বরং প্রশাসনের মাধ্যমে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেই তাঁর আশা।এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধান উপাধ্যায় বলেন, পুরনিগম ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে, না হওয়াই উচিত ছিলো। এটা গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। কারণ পুর বোর্ড ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত ছিলো। তবে, সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই আমারা প্রশাসনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবো।

পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার কথা আমি জানতাম না। আমাদেরকে বাদ দিয়েই মনে হয়, তা করা হয়েছে। মনে হয় পুর কমিশনারের কাছে চিঠি এসেছে। এর আগে একটা চিঠি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে এসেছিলো। পুরবোর্ডের পক্ষ থেকে কমিশনারের কাছে সেই চিঠির জবাব পাঠানো হয়েছে ।বোর্ডকে না জানিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিধান উপাধ্যায় বলেন, কমিশনারের প্রশাসনিক কাজ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

এখন সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন দায়িত্ব পালন করবে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থেই কাজ করবে।শহরে আবর্জনা পরিষ্কার ও পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আসানসোলের মতো বড় পুরনিগমে কোথাও কোথাও সাময়িক সমস্যা তৈরি হতেই পারে। সকালে পরিষ্কারের পরেও বিভিন্ন এলাকায় আবার আবর্জনা জমে যায়।

তবে পুরকর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন এবং পরিষেবা সচল রয়েছে।বর্ষাকালে জল জমার সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জল নিষ্কাশনে সমস্যা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। পানীয় জলের ক্ষেত্রেও যেখানে পুরনিগমের জল সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাম্প চালানো না গেলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জল সরবরাহও দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে।

বিধান উপাধ্যায় আরো বলেন, গত পাঁচ বছরে যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সেই অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ হয়েছে। এখন সরকার সরাসরি দায়িত্ব নেওয়ায় আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়বে বলেই তিনি আশাবাদী।তিনি বলেন, এত বড় একটি কর্পোরেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিলো, আসানসোলের মানুষ যাতে আরও ভালো নাগরিক পরিষেবা পান। নাগরিকদের স্বার্থই সর্বাগ্রে রেখে আমরা কাজ করেছি বলে দাবি তার।অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, এটা হওয়াই ছিলো।

সরকার বোর্ড ভেঙে ভালোই করেছে। তিনি আরো বলেন, জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলারদের এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিলো না। তারা কেউ পুরনিগমে যাচ্ছিলেন না। বাড়িতে কেউ নেই। সাধারণ মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। তাই সরকারের মনে হয়েছে, পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়াটাই ভালো। পুর প্রশাসক বসিয়ে অন্ততঃ পুর পরিসেবাটা সচল রাখা যাবে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *