আসানসোলে পদ্ম শিবিরে কোন্দল, পছন্দের ওয়ার্ড না পেয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, মণ্ডল সভাপতি থেকে ইস্তফা
জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বেলাগাম অভিযোগ বিজেপি নেতার
বেঙ্গল মিরর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল, ১ জানুয়ারিঃ বিজেপির তরফে তাকে আসানসোল পুরনিগমের ভোটে প্রার্থী করা হয়েছিলো ৷ কিন্তু, ওয়ার্ড পছন্দ হয়নি বিজেপির আসানসোল উত্তর মণ্ডল ২ য়ে’র সভাপতি সুদীপ চৌধুরীর৷ আর তাই দলের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি৷ শুক্রবার রাতে তিনি বলেছিলেন নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটের লড়াইয়ের ময়দানে নামবেন৷ পরে শনিবার সিদ্ধান্ত বদল করেন। এদিন তিনি জানান, দলের বিরুদ্ধে আমি নির্দল প্রার্থী হবো না৷ তবে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছি। পাশাপাশি দলের মণ্ডল সভাপতির পদ তিনি ছেড়ে দেন৷














শুক্রবার রাতে আসানসোল পুরনিগম নির্বাচনের জন্য ১০৬ টি ওয়ার্ডের বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে৷ সেই প্রার্থী তালিকা মতো ৪৭ নং ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী করা হয় বিজেপি নেতা সুদীপ চৌধুরীকে৷ কিন্তু, বিজেপির আসানসোল উত্তর মণ্ডল ২ য়ে’র সভাপতি সুদীপ চৌধুরীর সেই ওয়ার্ড পছন্দ হয়নি৷ তিনি এদিন অভিযোগ করে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে৷ সেটা হয়েছে দলের ভেতর থেকেই। ঐ ওয়ার্ডে দাঁড়ালে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে।
সুদীপ চৌধুরী বলেন, ‘আমি ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়াতে চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলাম৷ এমনকি দলের সম্মতিতেই ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্রের ফর্মও তুলেছিলাম৷ কিন্তু, পরে জানতে পারি আমাকে ৪৭ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী করা হয়েছে৷ ঐ ওয়ার্ডে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার৷ কখনই জেতা সম্ভব নয়৷ ইচ্ছাকৃতভাবে ষড়যন্ত্র করে দলের জেলা সভাপতি দিলীপ দে ও আসানসোল উত্তর বিধানসভার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আমাকে ঐ ওয়ার্ডে দাঁড় করিয়েছেন৷
সুদীপবাবু মারাত্মক অভিযোগ করে বলেন , আমার পরিবর্তে ৪২ নং ওয়ার্ডে এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যিনি জেলা সভাপতির বাড়িতে কাজ করেন৷
নিজের প্রতি অবিচারের অভিযোগ তুলে সুদীপ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ শুক্রবার রাতে তিনি বলেছিলেন, বিজেপির তরফে যদি সিদ্ধান্ত বদল না করা হয়, তবে, তিনি ৪২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ত্রিশুল চিহ্ন নিয়ে নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়বেন৷ পরে শনিবার সিদ্ধান্ত বদলান সুদীপ৷ জানান নির্দল প্রার্থী হবেন না৷ নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছেন৷ দলে মণ্ডল সভাপতির পদও ছেড়ে দিচ্ছেন৷
এদিকে এদিন সুদীপ চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির মহিলা মোর্চার বেশ কয়েকজন নেত্রীর প্রার্থী নিয়ে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন।
তারা একযোগে সুদীপ চৌধুরীর পাশে থেকে বলেন, দল যদি বিবেচনা না করে, তাহলে তারা দলের হয়ে পুর ভোটে প্রচার ও কোন কাজ করবেন না।
এদিকে সুদীপ চৌধুরীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি দিলীপ দে। তিনি বলেন, কেউ আমরা একা প্রার্থী ঠিক করিনি। ১০ জনের কমিটি সব দেখে তালিকা করে রাজ্যে পাঠাই। তারা সম্মতি দিয়েছেন। যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তার কোন ভিত্তি নেই।

