অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ধৃত ১ রাজনৈতিক তরজা, আক্রমণে প্রাক্তন বিধায়ক
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভোটের দিন দুপুরে আসানসোল পুরনিগমের ৮২ নং ওয়ার্ডে বার্নপুরের রহমতনগরে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার ঘটনায় হিরাপুর থানার পুলিশ ১ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতর নাম আসগর আলি। ধৃতকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন নাকচ করে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।














শাসক দলের তরফে শনিবার সরাসরি অগ্নিমিত্রা পালকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছে, পুরোটাই পরিকল্পনা মাফিক। আগে থেকেই এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করা ছিলো। সেই মতো তা ঘটানো হয়েছে। আরো দাবি করা হয়েছে, ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বদনাম করতে একটা যড়যন্ত্র করা হয়েছে। শনিবার সকালে রানিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক সোহরাব আলি আসানসোল ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের দিন, ২৩ এপ্রিল, বার্নপুরের রহমত নগরে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে কিছু বিষয় তুলে ধরেন।সোহরাব আলি বলেন, অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেছেন যে শেখু এবং সাবির নামে দুজন ব্যক্তি তাঁর গাড়িতে পাথর ছুঁড়েছে। সোহরাব আলি বিজেপি প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন , শেখু এবং সাবিরকে পাথর ছুঁড়তে তিনি নিজে দেখেছেন নাকি অন্য কেউ তাকে এ বিষয়ে জানিয়েছে, তা তাকে জানাতে হবে। যদি অন্য কেউ তাঁকে এ বিষয়ে জানিয়ে থাকে, তাহলে শেখু এবং সাবির তাঁর গাড়িতে পাথর ছুঁড়েছে, এই কথা কে তাঁকে বলেছে, তা অগ্নিমিত্রা পালকে প্রকাশ করতে হবে।
সোহরাব আলি বলেন , সেখানে পাওয়া ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে অগ্নিমিত্রা পাল যখন তাঁর বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে, ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইল ফোনে একটি ম্যাসেজ আসে। যেটি তিনি পড়েন। সেটি পড়ার পর তিনি শেখু ও সাবিরের নাম উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থীকে জানাতে হবে, কে তাকে ম্যাসেজটি পাঠিয়েছিল এবং এই দুই ব্যক্তির নাম জানিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে হামলার ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় আসগর আলী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। আসগর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদেই এই ষড়যন্ত্র ফাঁস হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই হয়তো তার গাড়িতে এই হামলা চালানোর জন্য টাকা দিয়েছেন। যদি বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে রহমতনগরে হামলা হতো, তাহলে হামলার জায়গায় গাড়ির ভাঙা কাঁচের টুকরো মাটিতে পড়ে থাকতল। কিন্তু সেরকম কিছুই দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন, বিজেপি প্রার্থীর প্রথম গাড়ির পরে, তিনি দ্বিতীয়বার অন্য একটি গাড়িতে আসেন। তিনি যখন তার গাড়িতে আসেন, তখন সেই গাড়ির পেছনের কাঁচ আগে থেকেই ভাঙা ছিল।
শাসক দলের প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে বদনাম করার জন্য এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ছিল। সোহরাব আলী পুরো ঘটনাটির তদন্তের দাবি করে বলেন, এর জন্য যে বা যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যদি অগ্নিমিত্রা পাল এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থেকে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সোহরাব আলী এই পুরো ঘটনায় সৈয়দ আতিস ওরফে রিঙ্কু এবং কাশিম আশরাফি বা চীনার জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে আমার ভাইপো ও তার এক বন্ধুুর নাম জড়ানো হচ্ছে। পুলিশের উচিত বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা। তারপরেই সত্য প্রকাশ পাবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, অগ্নিমিত্রা পাল ২০২১ সালেও একই ধরনের কাজ করেছিলেন। ২০২৬ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছেন। সোহরাব আলী প্রশ্ন তোলেন যে, ২৩ এপ্রিল এই জেলার নয়টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিলো। কিন্তু কোথাও থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তাহলে প্রতিবার অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে এমন ঘটনা কেন ঘটে? বিজেপি প্রার্থীকে এর জবাব দিতে হবে।
এদিকে, অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি, তাদের কাউকে ধরা হয়নি। অন্য একজন গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভাইপোকে পুলিশ স্বাভাবিক ভাবেই ধরেনি। তিনি বলেন, সবাই জানে সেদিন কি ঘটনা ঘটেছিলো। পুলিশকে নিরপেক্ষ হয়ে এবার তদন্ত করে আসল দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে।

