দুর্গাপুজোর আয়োজনকে ঘিরে দুর্গাপুরে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ, মন্ডল সভাপতিকে মারধর, পাল্টা উপপ্রধানকে ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপুজোর আয়োজনের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, এই নিয়েই রণক্ষেত্র পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কাঁকসার বিদবিহারের দুবরাজপুর কলোনি। পুজোর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধানকে লক্ষ্য করে চলে ডিম বৃষ্টি। অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূলের উপপ্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে এলাকায় ছড়ায় তীব্র উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় কাঁকসার মলানদিঘী ফাঁড়ির পুলিশকে।













ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শচীন বিশ্বাসের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্গাপুজোর পুরনো কমিটিতে এলাকার নতুন কিছু ছেলেকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পুজো সবার তাই কমিটিতেও এলাকার নতুন প্রজন্মকে নেওয়া দরকার। কিন্তু সেই দাবি ঘিরেই তৈরি হয় বিরোধ। শচীন বিশ্বাসের আরো অভিযোগ, নতুন ছেলেদেরকে নেওয়ার দাবি জানালেই তাকে হুমকি দেয় পুরনো কমিটি।
এরপর তৃণমূলের উপপ্রধান গোপাল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি প্রতিবাদ করতে গেলে মহিলাদের দিয়েও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপির পক্ষ থেকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পাল্টা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের আত্মীয়দের অভিযোগ, বিজেপির লোকজন তাঁদের উপর চড়াও হয়।
তাঁদের ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ নজরদারি করছে।

