যারা এতদিন হুঙ্কার দিতো তারা এখন কান্নাকাটি করছে” দুর্গাপুরে হুমায়ুন কবিরকে কটাক্ষ কার্তিক মহারাজের
” *বেঙ্গল মিরর, কাঁকসা ( পশ্চিম বর্ধমান), রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ভগবান সব সহ্য করতে পারেন, কিন্তু অহংকার কখনো সহ্য করেন না। অহংকারের কারণেই রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফলের পর নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বা এজেইউপির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে কাঁদতে হয়েছে। শনিবার মহালয়ার পূণ্য তিথিতে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের কাঁকসায় এসে ঠিক এ ভাষাতেই রাজ্যের বিরোধী দল ও হুমায়ুন কবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ।এদিন মহালয়ার সকালে প্রথমে কাঁকসা থানার ঐতিহাসিক কঙ্কেশ্বরী কালী মন্দিরে পুজো দেন কার্তিক মহারাজ।











এরপর কাঁকসা থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ (আইসি) সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও থানার মন্দিরে পুজো দেন। সেখান থেকে তিনি পৌঁছান রথতলা কঙ্কেশ্বরী দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে। সেখানে মা দুর্গার কাছে প্রণাম নিবেদন করে চণ্ডীপাঠ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে মঞ্চের অনুষ্ঠান থেকে এলাকার দুঃস্থ মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। কার্তিক মহারাজকে স্বাগতম জানাতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহিলা ঢাকিদের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
যেখানে ভক্তদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।সদ্য রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের জয় এবং হিংসামুক্ত উপনির্বাচন নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুর চড়ান কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, রাজ্যের মুসলিম সমাজও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তার প্রমাণ মিলেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে। যেখানে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।তিনি আরো বলেন, এবছর বাংলায় কোনো রক্তপাত ছাড়াই শান্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
যা সত্যিই ধন্যবাদের যোগ্য। এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং তার পরবর্তী ভোটে ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবার কিন্তু ছবিটা আলাদা। ইভিএম বিতর্ক নিয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ব্যালটে ভোট হলেই ভালো, আর ইভিএমে ভোট হলেই সমালোচনা শুরু হয়। যাদের সমালোচনা করার স্বভাব, তারা করবেই।
রাজ্যে সনাতনী শাসনের ইতিবাচক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সনাতনী রাজ আসার পরেই মানুষ প্রকৃত নিরাপত্তা পেয়েছে, সরকার জমি দিয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত হয়েছে।বিরোধী নেতাদের হুঙ্কার ও কান্নাকাটি নিয়ে কটাক্ষ করে নেতাদের নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কার্তিক মহারাজ বলেন, অনেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিল ৪ তারিখ বেলা বারোটার পর অনেক কিছুই নাকি বদলে যাবে।
কিন্তু ৪ তারিখ বেলা বারোটা পার হয়ে গেলেও আজ আর কোনো চিন্তা নেই। এখন একটা ভোটের জন্য অনেকেই জেলখানায় গিয়ে কান্নাকাটি করছে। কেউ আবার বলছে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে চলে যাবে! এতদিন যারা হুঙ্কার দিচ্ছিল, এখন তাদের অবস্থা হয়েছে ‘বিড়ালে বলে মাছ খাবো না, কাশী যাব” সেই রকম ব্যাপার। তাই দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ঘরে ঘরে সকলকে প্রস্তুত হতে হবে।
পোশাক নয়, মনের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, পোশাক পরিবর্তন করলেই ধর্ম পরিবর্তন হয় না। তার জন্য মনের পরিবর্তন প্রয়োজন।দিল্লি আন্দোলন ও কাশ্মীরের পাথর ছোঁড়ার পেছনে দেশবিরোধী যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে কার্তিক মহারাজ অভিযোগ করে বলেন, দিল্লিতে ‘জেন জি’ দের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার পেছনে দেশবিরোধী ও বিদেশি শক্তির স্পষ্ট হাত রয়েছে।
অতীতেও নানাভাবে দেশবিরোধী শক্তি ভারতকে অস্থির করার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে কাশ্মীরে যারা সেনার ওপর ঢিল ছুঁড়ত, পরে দেখা গিয়েছিল ওই প্রতিটা ঢিল ছোঁড়ার বিনিময়ে তাদের ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো।কাঁকসার রথতলায় এই অনুষ্ঠান থেকে কার্তিক মহারাজ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সত্য ও ধর্মের পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।


