বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট ” জনমোহিনী ও উন্নয়নমুখী” স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য বনিকসভা ” ফসবেকি” র সভাপতির
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* রাজ্য বিধানসভায় সোমবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেন । এই বাজেটে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তথা আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় বনিকসভা ফেডারেশন অফ সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা ফসবেকির সভাপতি শচিন রায় একে জনমোহিনী ও উন্নয়নমুখী বাজেট বলে অভিহিত করেন।তিনি বলেন, আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে মেট্রো রেলের সম্ভাব্য সমীক্ষার ঘোষণা এই বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে ধন্যবাদ জানাই।শচিন রায় পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানিয়েছেন।














তাঁর মতে, শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।তিনি আরো বলেন, শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে বাজেটে একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে এবং রাজ্যে শিল্প বৃদ্ধির পথ আরও সুগম করবে।রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এর ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে এক লক্ষের বেশি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রাকেও তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।এছাড়া কল্যাণীতে বিমানবন্দর নির্মাণ, উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ে তোলার পরিকল্পনাকেও তিনি সাধুবাদ জানান। তাঁর মতে, এসব প্রকল্প রাজ্যের শিক্ষা, ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।তিনি বলেন, বাংলার বিশেষ ধর্মীয় স্থানগুলিকে নিয়ে একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাতে কল্যানেশ্বরী মন্দির রয়েছে। তবে আসানসোলের ঘাঘরবুড়ি মন্দির খুব জনপ্রিয়। সেখানে প্রচুর মানুষ আসেন। সরকারের এই পরিকল্পনায় আসানসোলের ঘাঘরবুড়ি মন্দির সংযুক্ত হলে ভালো হবে।
তবে বাজেটে দামোদর নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং আসানসোল স্টেডিয়ামের সংস্কারের জন্য কোনও নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন শচিন রায়। এছাড়াও দিন কয়েক আগে দুর্গাপুরে রাজ্যের অর্থ মন্ত্রী বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন। সেখানে ফসবেকির তরফ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। তার কোন প্রতিফলন এই বাজেটে পাওয়া যায়নি।যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে রাজ্য সরকার এই বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোবে। সব মিলিয়ে, তিনি এই বাজেটকে রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি জনকল্যাণমূলক ও ইতিবাচক বাজেট বলে অভিহিত করেন।


