পশ্চিম বর্ধমানের মেডিক্যাল কলেজ কাজি নজরুল ইসলামের নামে করার প্রস্তাব আইএমএর আসানসোল জেলা হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার চালুর চেষ্টা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের নাম বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে করার দাবি জানাল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএর আসানসোল আসানসোল শাখা।বুধবার ১ জুলাই জাতীয় চিকিৎসক দিবসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী , স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুর ও নগরোন্নয়ন অগ্নিমিত্রা পাল এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দারের কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠায় আইএমএ আসানসোল শাখা।বুধবার আসানসোলের সেনরেল রোড বা বিবেকানন্দ সরণীতে আইএমএ ভবনে ডক্টর্স ডে উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো।














সন্ধ্যায় মুল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি প্রয়াত ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তিনি প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। তিনি শহরের বর্ষীয়ান চিকিৎসক ডাঃ অশোক রায়, আইএমএ আসানসোল শাখার চীফ পেট্রোন ডাঃ পি সি মাজি, সভাপতি ডাঃ রবিকান্ত ঝাঁ, নির্বাচিত সভাপতি ডাঃ রুহুল আমিন, সম্পাদক ডা. সত্র্যাজিৎ রায় এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. সিদ্ধার্থ বন্দোপাধ্যায় সহ অন্যান্যারা।
এই অনুষ্ঠানে আইএমএর আসানসোল শাখার পক্ষ থেকে অগ্নিমিত্রা পালকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের নাম বিদ্রোহী কবির নামে করার স্মারকলিপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আইএমএর আসানসোল শাখার পক্ষ থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের নাম বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের নামে করার কথা বলা হয়েছে। তারা এই মর্মে একটি স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
আমাকেও তারা তা দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো প্রস্তাব। সরকার অবশ্যই তা বিবেচনা করবে। আমিও মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে বিষয়টি বলবো। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসানসোল জেলা হাসপাতালে ট্রমা সেন্টার কি ভাবে চালু করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় তা চালু করার সবকিছু হয়েছিলো। কিন্তু কোন কারণে তা করা হয়নি। ঐ সেন্টারের জন্য জায়গা আছে। কিন্তু পরিকাঠামো ও চিকিৎসক নেই। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। এর পাশাপাশি তিনি বিগত সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সাথী নামে একটা প্রকল্প থাকলেও, তার সুবিধা বাংলার সব জায়গায় পাওয়া যেতোনা। অন্য রাজ্যের কথা তো ছেড়েই দিন।
লিভার ট্রান্সফার ও ক্যান্সারের মতো রোগের চিকিৎসা স্বাস্থ্য সাথীতে হতো না। আমরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা বাংলার মানুষদের পরিকল্পনা নিয়েছি। এই মাসেই এর কার্ড মানুষের হাতে পৌঁছে যাবে। মেডিক্যাল কলেজ সম্পর্কিত স্মারকলিপি নিয়ে আইএমএর আসানসোল শাখার চীফ পেট্রোন ডাঃ পিসি মাজি বলেন, আসানসোলে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের প্রস্তাব, কলেজটির নাম “কাজী নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ” রাখা হোক।
সেটি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মভিটা স্মৃতিবিজড়িত চুরুলিয়া বা তার আশেপাশে গড়ে তোলা হোক। আইএমএর মতে, এর মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পাশাপাশি চুরুলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও সংরক্ষণ হবে। তিনি আরো বলেন,স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগ চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। রাজ্য সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে আইএমএ।


