Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Bengal Mirror
ASANSOL

কর্মস্থলে অসুস্থ রেলকর্মীর মৃত্যু, অ্যাম্বুল্যান্স না পাঠানোর অভিযোগ প্রতিবাদে আসানসোল হাসপাতালে ইউনিয়নের অবস্থান বিক্ষোভ

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ডিউটির মাঝে হঠাৎই বুকে ব্যথা উঠে রেল কর্মীর। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স চাওয়া হলেও কুমারডুবি পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্স না পাঠানোর অভিযোগ উঠলো আসানসোলের ডিভিশনাল রেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঐ রেলকর্মীর মঙ্গলবার রাতেই মৃত্যু হয়। ঐ মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার চাঞ্চল্য ছড়ালো আসানসোল রেল হাসপাতালে। মৃত রেল কর্মীর সহকর্মীরা এদিন সকাল থেকে রেল হাসপাতালে ইস্টার্ন রেলওয়ে মেনস্ ইউনিয়ন আসানসোল ব্রাঞ্চ ২ এর ব্যানার নিয়ে অবস্থানে বসেন। তাদের দবি, কুমারডুবি আসানসোল ডিভিশনের মধ্যে পড়ে।

তাহলে সেখানে কেন এ্যাম্বুলেন্স যাবে না? কে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে খুঁজে বার করতে হবে। মৃত রেল কর্মীর নাম সাহেব হুসেন (৪৫)। তিনি পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের টিআরডি বিভাগের কর্মী ছিলেন।জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে কুমারডুবিতে ডিউটি করার সময় রাতে সাহেব হুসেন সহকর্মীদের ফোন করে জানান যে তাঁর বুকে ব্যথা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের দাবি করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ, আসানসোলের রেল হাসপাতাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, কুমারডুবি পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্স যাবে না।এরপরে ইউনিয়নের তরফে বিষয়টি হাসপাতাল প্রশাসনের আধিকারিকদের জানানো হয়। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ সিএমএস প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

পরে সিএমএসের সঙ্গে কথা হলে ঘটনার কথা জানানো হয় এবং বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে দাবি সহকর্মীদের। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও অ্যাম্বুল্যান্স না পৌঁছনোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।শেষপর্যন্ত টিআরডি বিভাগের এক সিনিয়র আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর গাড়ি ও চালককে কুমারডুবিতে পাঠানো হয়।

তবে গাড়ি পৌঁছনোর আগেই সাহেব হুসেনের মৃত্যু হয় বলে সহকর্মীদের দাবি। বুকে ব্যথার পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা জানান।কুমারডুবি থেকে মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও সমস্যার অভিযোগ ওঠে। সহকর্মীদের দাবি, সেখান থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

পরে কয়েকজন কর্মী মিলে মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন রেলকর্মীরা। তাঁদের প্রশ্ন, আসানসোল ডিভিশনের অন্তর্গত কুমারডুবিতে কোনও রেলকর্মী জরুরি অসুস্থ হয়ে পড়লে যদি অ্যাম্বুল্যান্স না যায়, তাহলে প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত কর্মীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা কি আছে ?

তাঁদের আরও অভিযোগ, অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স থাকা সত্ত্বেও সেটি সময়মতো কাজে না আসায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।এদি রেল হাসপাতালে অবস্থানে বসা ইউনিয়নের সম্পাদক পিএন রামের দাবি, ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা নির্ধারণ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, দায় নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান থেকে সরবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল রেল হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রেল আধিকারিকরা আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে রেলকর্মীরা তাদের আন্দোলন তুলে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *