ASANSOL

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আসানসোল, জলমগ্ন একাধিক এলাকা রাতে ভেঙে পড়ল বিশাল গাছ

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একটানা দুদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আসানসোল শহর ও তার আশপাশের এলাকা। বিশেষ করে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে দিলদারনগর, রামকৃষ্ণ ডাঙাল, চাঁদমারি, হটন রোড, চেলিডাঙ্গা সহ একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিএনআর থেকে আদালত যাওয়ার রাস্তায় জেলা গ্রন্থাগারের সামনে একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায়। তবে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতায় রাতেই গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়।বৃষ্টির জেরে আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকার নিচু জায়গা ও একাধিক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটু সমান জল, কোথাও আবার রাস্তার উপর জল জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বেরিয়ে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যানবাহন চালকদেরও সতর্ক থাকতে হয়। অনেককেই রাতে গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে বিএনআর থেকে আদালত যাওয়ার পথে জেলা গ্রন্থাগারের সামনে বৃষ্টির মধ্যেই আচমকা একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে। খবর পান আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।

তিনি দ্রুত সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। খবর পেয়ে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।এরপর রাতেই ভেঙে পড়া গাছ সরানোর কাজ শুরু হয়। বুধবার সকালে আসানসোল পুরনিগমের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাকি অংশের গাছপালা সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন বলে জানা গেছে।

ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।এদিকে, জল জমা নিয়ে স্থ বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা এলেই প্রতি বছর দিলদারনগর, রামকৃষ্ণ ডাঙাল, চাঁদমারি-সহ বিভিন্ন এলাকায় একই সমস্যা হয়। তাঁদের দাবি, সাময়িকভাবে জল সরানোর পাশাপাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নিয়মিত নালা পরিষ্কার এবং জলনিকাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।টানা বৃষ্টিতে একদিকে যেমন জলমগ্ন একাধিক এলাকা, অন্যদিকে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এখন প্রশাসন ও পুরনিগম কত দ্রুত জলমগ্ন এলাকাগুলিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *