আসানসোল থানায় বাগেশ্বর বাবার এফআইআর করতে অভিযোগ দুর্গাপূজো ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কংগ্রেসের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপূজো ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে আসানসোলে বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো কংগ্রেস।প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডির নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী নামে ঐ ধর্মগুরুর কুশপুত্তলিকা ও পোস্টার পোড়ান। এর পাশাপাশি আসানসোল দক্ষিণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি বলেন, ২০১৪ সালের পরে থেকে গোটা দেশে কিছু গুরুর আবির্ভাব ঘটেছে।













দিন কয়েক আগে হাওড়ায় এক সভায় বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বাঙালিরা অধার্মিক ও ভণ্ড বলেছেন। তিনি বাঙালিদের শেখাতে এসেছেন কিভাবে দুর্গাপূজা পালন করতে হয়, কি খেতে হয় এবং কি পরতে হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে বসে তিনি ১০ কোটি বাঙালিকে অপমান করেন। আর সেখানে উপস্থিত বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরা হাততালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।তিনি আরো বলেন, বাংলার প্রতিটি ঘরে দুর্গাপূজা পালিত হয়।
আমার নিজের বাড়িতেও সাড়ে চারশো বছর ধরে দুর্গাপূজো হয়ে আসছে। তারাপীঠে দেবী তারাকে মাছের মাথা অর্পণ করা হয়। এটি বাংলার সংস্কৃতির অংশ এবং শাস্ত্রেও এর উল্লেখ আছে। বাংলার দুর্গাপূজো বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তিনি বলেন, এটা বাংলায় উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। ঐ ধর্মগুলোর যদি তামিলনাড়ু বা মহারাষ্ট্রে একই কথা বলতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তেন।
বিজেপি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ বা কারখানা নিয়ে চিন্তিত নয়। তারা কেবল ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করা এবং অপমান করা নিয়েই চিন্তিত।কংগ্রেস নেতা সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, ঐ বাবাকে অবশ্যই বাংলায় এসে ক্ষমা চাইতে হবে। এর পাশাপাশি, তার দায় নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিন ঐ ধর্মগুরুর নামে আসানসোল দক্ষিণ থানায় এফআইআর করতে অভিযোগ দায়ের করেছি। এফআইআরের কপি সরবরাহ করা না হলে আমি আদালতে যাবো। আদালতের মাধ্যমে ঐ ধর্মগুরুকে আসানসোলে টেনে নিয়ে আসবো।

