ASANSOL

আসানসোল পুরনিগম এলাকার ওয়ার্ড পুনর্গঠন ও সীমানা নির্ধারণ , ১১ সদস্যের কমিটি গঠন

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রশাসনিক সুবিধা এবং জনসংখ্যা ঠিক রাখার লক্ষ্যে আসানসোল পুরনিগম এলাকায় ওয়ার্ড পুনর্গঠন ও সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই নিয়ে আসানসোলের পুর কমিশনার দিলীপ মিশ্রের তরফে একটি নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশ অনুসারে, জনপ্রশাসনের স্বার্থে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ১১ সদস্যের একটি সীমানা নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সম্পূর্ণ সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া তদারকি ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন আসানসোল পুরনিগমের সচিব। পুর সচিবকে নোডাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

কমিটি বর্তমান ওয়ার্ডের সীমানা এবং জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। এটি সুষম জনসংখ্যা বন্টন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন ওয়ার্ড সীমানার খসড়াও তৈরি করবে। এই ১১-সদস্যের কমিটিতে আসানসোল পুরনিগমের বোরোর সার্ভেয়ার এবং সাব এ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন বোরো নং ১ থেকে সার্ভেয়ার কেদার মণ্ডল, ড্রাফটসম্যান তথা সার্ভেয়ার ইন্দ্রনাথ রায়, বোরো নং ২ থেকে সৈকত দে, বোরো নং ৩ থেকে বিষ্ণুপদ গিরি, বোরো নং ৪ থেকে চিরঞ্জিত কর্মকার, বোরো নং ৫ থেকে কপিল মুখোপাধ্যায় , বোরো নং ৬ থেকে ফারুক মালিতা, বোরো নং ৭ থেকে নয়ন মিশ্র, বোরো নং ৮ থেকে স্নেহেশ লায়ক, বরো নং ৯ থেকে রথীন চট্টোপাধ্যায় এবং বোরো নং ১০ থেকে দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। কমিটির বিস্তারিত প্রতিবেদন ও খসড়ার ভিত্তিতে পুর এলাকার নতুন ওয়ার্ড সীমানা চূড়ান্ত করা হবে।

প্রসঙ্গতঃ, তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় ২০১৫ সালে আসানসোল পুরনিগমের ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১০৬টি হয়। আগে আসানসোল পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ড ছিল। ২০১৫ সালে, রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে সরকার কুলটি পুরসভা, রানিগঞ্জ পুরসভা এবং জামুরিয়া পুরসভাকে আসানসোল পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর ফলে ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১০৬টি হয়।

কিন্তু সেই ওয়ার্ড সম্প্রসারণের পর দশ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। তবে, আসানসোল পুরনিগমের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। এমনকি তাদের আর্থিক বা অন্য কোনো ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি। এতে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের অসুবিধা হচ্ছে। ছোটখাটো কাজের জন্য তাদেরকে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর আসানসোল পুরনিগমের সদর দপ্তরে যেতে হয়।

এবারের নির্বাচনের আগে আসানসোলের বিজেপির প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, সরকার গঠন করলে তারা পুরনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবেন। তারা বলেছিলেন, কুলটি, জামুরিয়া এবং রানিগঞ্জকে আসানসোল পুরনিগমকে আলাদা করে আগের পুরসভা হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। এখন নির্বাচনের পরেও বিজেপির মন্ত্রীরা একই কথা বলেছেন। কিন্তু নতুন সরকার সত্যিই জনগণের স্বার্থে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করবে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পথ অনুসরণ করবে, তা দেখার বিষয় হবে।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *