পানীয়জল দাবিতে কুলটিতে মহিলাদের রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানীয়জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আসানসোল পুরনিগমের কুলটির ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর লোকো লাইন এলাকার বাসিন্দারা। এদিন স্থানীয় মহিলারা লোকো লাইন থেকে এলসি মোড় ও বরাকরগামী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এর জেরে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।অবরোধের খবর পেয়ে কংগ্রেস নেতা রবি যাদব ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান।













তিনি বলেন, গত ৩-৪ বছর ধরেই এই এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। আগে সেল গ্রোথ ওয়ার্কস, কুলটির পক্ষ থেকে এলাকায় জল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে রেলের পাইপলাইন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে রয়েছে।স্থানীয় মহিলাদের দাবি, লোকো লাইন এলাকায় প্রায় ৫০০টি পরিবার পানীয়জলের সমস্যায় ভুগছে।
পাশাপাশি এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারাও জলসংকটে সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমানে স্থানীয়রা রেলের পাইপলাইন থেকে জল সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ। যা যে কোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে পানীয়জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জল না থাকায় রান্না এবং কাপড় ধোয়ার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা পিএইচই বা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দারের কাছে সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আবেদন করা হয়েছে। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত আশ্বাস ছাড়া কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।রবি যাদব বলেন, কুলটির বিধায়ক একই সঙ্গে পিএইচই মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার পরও কুলটির মানুষকে পানীয় জলের জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কি হতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় মহিলারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত পানীয়জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি জিটি রোড অবরোধ করা হবে।অবরোধের খবর পেয়ে কুলটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। পুলিশ আধিকারিকদের আশ্বাসের পর স্থানীয় মহিলারা অবরোধ তুলে নেন। এরপর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকো লাইন এলাকার বাইরে যাতায়াতের জন্য রেলের তরফে রেললাইনের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
ওই ব্রিজের কারণে সেল কর্তৃপক্ষের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে, অভিযোগ, আসানসোল পুরনিগমের তরফেও এলাকায় স্থায়ীভাবে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকার বহু মানুষ রেলের পাইপলাইন থেকে জল নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

