১৪ দিনের জেল হেফাজত খনির কর্মীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সিবিআইয়ের জালে পান্ডবেশ্বরের তৃণমূলের শ্রমিক নেতা, চাঞ্চল্য
*বেঙ্গল মিরর , পাণ্ডবেশ্বর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে কর্মক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এক খনি কর্মীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সিবিআইয়ের জালে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন নেতা। ধৃতর নাম শঙ্করলাল হরিজন। ধৃত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতাও ইসিএলের পান্ডবেশ্বরের শ্যামলা কোলিয়ারির খনি কর্মী। পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি এলাকা পাণ্ডবেশ্বরে সিবিআইয়ের এই গ্রেফতারিতে বুধবার রাতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধৃতকে আসানসোলে বিশেষ সিবিআই আদালতে পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির তরফে ধৃতকে হেফাজতে নেওয়ার কোন আবেদন এদিন আদালতে করা হয়নি।













তবে ধৃতর তরফে তার আইনজীবি এদিন আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক তার জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। জানা গেছে, বুধবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ পাণ্ডবেশ্বরের সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারি এলাকার তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা খনি কর্মী শঙ্করলাল হরিজনের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ।
পাশাপাশি কোলিয়ারির একটি অফিসেও চলে তল্লাশি। রাতভর এই অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয় বলে সূত্রের দাবি। জানা গেছে, তৃণমূল সরকারের আমলে শঙ্করলাল হরিজন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। দিন দুয়েক আগে ইসিএলের সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারির এক কর্মীকে মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে শঙ্করলাল হরিজনের বিরুদ্ধে।
ঐ কর্মী সেই অভিযোগ সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের জানান। ঐ কর্মীর কথা মতো সিবিআইয়ের আধিকারিকরা বুধবার ফাঁদ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় শঙ্করলালকে হাতেনাতে পাকড়াও করে।এরপর বুধবার রাতে তিন সদস্যের সিবিআইয়ের একটি দল সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারি এলাকায় পৌঁছয়। প্রথমে কোলিয়ারির একটি অফিসে তল্লাশি চালানোর পর শঙ্করলাল হরিজনের বাড়িতেও শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি।
বাড়ির বিভিন্ন নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তদন্তকারীরা সঙ্গে নিয়ে যান । তল্লাশি ঘিরে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা। বিশেষ করে ইসিএলের কর্মীকে ‘বিশেষ সুযোগ’ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়।অভিযানে শঙ্করলাল হরিজনের ছেলেকেও সিবিআই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলেও সূত্রের দাবি।
এই প্রসঙ্গে ধৃত শঙ্করলল হরিজনের আইনজীবী শেখর কুন্ডু এদিন বলেন, সিবিআই আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে এক খনি কর্মীকে কর্মক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। এদিন তাকে সিবিআই আদালতে পেশ করা হয়েছিলো।তবে সিবিআইয়ের তরফে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি। আমি জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিচারক জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

