কাটমানি বিতর্কে অন্ডালের ডিভিসিতে নব্য বনাম পুরনো বিজেপি , বচসা থেকে হাতাহাতি, উত্তপ্ত এলাকা, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ
*বেঙ্গল মিরর, অন্ডাল, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কাটমানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অন্ডালের ডিভিসি চত্বরে নব্য বিজেপি ও পুরনো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা গড়াল হাতাহাতিতে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অন্ডাল থানার পুলিশ। বেশ কিছুক্ষনের চেষ্টায় পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুরনো বিজেপি কর্মী তথা অন্ডাল গ্রামের বাসিন্দা ধ্রুব পান্ডে অভিযোগ করে বলেন , বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশের লোকজন বিজেপির বেশ ধারণ করে দলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।













তার দাবি, এরা প্রকৃত বিজেপি কর্মী নন। বরং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই নতুন পরিচয়ে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ধ্রুব পান্ডের মতো এলাকার পুরনো বিজেপি কর্মীদের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে যে ‘কাটমানি সংস্কৃতি’র অভিযোগ উঠত, সেই একই ধারা বিজেপির নাম ব্যবহার করে চালু করার চেষ্টা চলছে।
আর তারই জেরে দলের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপির পোশাক পরে বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি বেআইনি ভাবে অর্থ আদায় কিংবা কাটমানির সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলে তার দায় দলের প্রকৃত কর্মীদের ঘাড়ে এসে পড়ছে। ফলে এই ধরনের ‘নব্য বিজেপি’ কর্মীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে দলের পুরনো কর্মীদের মধ্যে।
এই ঘটনায় রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষের কাছেও হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন পুরনো বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, দলের নাম ব্যবহার করে যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় স্তরে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। গোটা বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রানিগঞ্জের বিধায়কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন অন্ডালের বিজেপি কর্মীরা। তবে ডিভিসি চত্বরে এই ঘটনায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে নতুন করে সামনে চলে এল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

