বাগেশ্বর বাবার ছবিতে লাথি মারার অভিযোগ, আসানসোল থানায় কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর বিজেপি যুব মোর্চার
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বাগেশ্বর ধামের প্রধান বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর দুর্গাপূজা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা পেল আসানসোলে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে লাথি মারার অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির বিরুদ্ধে আসানসোল দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। বৃহস্পতিবার আসানসোল দক্ষিণ থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। পরে থানায় গিয়ে ঐ কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি জানানো হয়।













ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি অভিক মণ্ডলের দাবি, সম্প্রতি কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাবা বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সেখানে তিনি দুর্গাপূজা সম্পর্কে কয়েকটি মন্তব্য করেন। তাঁর সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আসানসোল দক্ষিণ থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।অভিক মণ্ডল বলেন, বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডি ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে লাথি মারেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন পথে নামে বিজেপির যুব সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক বা মতাদর্শগতভাবে কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের বিরোধিতা করার অধিকার সকলের রয়েছে।
কিন্তু প্রতিবাদের নামে কারও ছবিতে লাথি মারা বা অসম্মান করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অভিক মণ্ডল বলেন, কেউ কারও বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নাও হতে পারেন। বক্তব্যের বিরোধিতা করার জন্য গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করা যেতে পারে। কিন্তু ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে যেভাবে লাথি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত আপত্তিকর।”
তাঁর আরও দাবি, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে যুক্ত একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। ফলে তাঁর ছবিতে লাথি মারার অভিযোগের বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া যায় না। তাই বিজেপি যুব মোর্চার নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।অন্যদিকে, গোটা ঘটনাকে ঘিরে আসানসোলে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। দুর্গাপূজা ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কর্মসূচিতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে লাথি মারার অভিযোগ তুলে পাল্টা সরব হল বিজেপি যুব মোর্চা।

