যানজট নিয়ন্ত্রণে আসানসোলে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ওয়ান-ওয়ে, ঘুরপথে যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ, ” পাইলট প্রজেক্ট” দাবি বিধায়কের
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জেলা হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করলো আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কোন রকম প্রচার ও সাধারণ মানুষকে এই ব্যাপারে আগে থেকে অবগত না করানোয় নতুন নিয়মের কারণে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ । পাশাপাশি, কোন রাস্তা দিয়ে গেলে কোথায় পৌঁছনো যাবে, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একইসাথে তৈরি হয়েছে ক্ষোভও।









পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হটন রোড ও এস বি গরাই রোডের একাংশে বলতে গেলে প্রায় সময়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার থেকে সেই সমস্যা মোকাবিলায় আসানসোল স্টেশন থেকে জিটি রোডে রোড হয়ে হটন রোড মোড়, ইসমাইল মোড় হয়ে হাসপাতাল এবং হাসপাতাল থেকে ময়দা কল মোড়, শনি মন্দির ও পুরনো রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মোড় পর্যন্ত নির্দিষ্ট রুটে ওয়ান-ওয়ে ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাসপাতালমুখী রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ করে দেওয়া। সাধারণ মানুষকে নতুন ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে।




এ প্রসঙ্গে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (ট্রাফিক) জাধাওয়ার অবিনাশ ভীমরাও বলেন, হটন রোড থেকে জেলা হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তায় প্রায় সময়ে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই ওয়ান-ওয়ে ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার এবং পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে নতুন এই ট্রাফিক ব্যবস্থায় সমস্যার কথাও জানিয়েছেন শহরবাসীর একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ওয়ান-ওয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের উচিত ছিলো, কিছু আগে থেকে প্রচার করতে হতো। তাতে সাধারণ মানুষ যারা এই রাস্তা ব্যবহার করেন, তারা মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু তা করা হয়নি। বুধবার বিকেল থেকে প্রচার করা হয় ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা কার্যকর করা হয়েছে। হটন রোড সংলগ্ন এলাকায় দুটি স্কুল থাকায় পরীক্ষার সময়ে পড়ুয়াদের যাতায়াত নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে এই প্রসঙ্গে আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওয়ান-ওয়ে চালুর ফলে সাময়িকভাবে মানুষের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। কোন রাস্তা দিয়ে গেলে কোথায় পৌঁছনো যাবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে। তবে যানজটমুক্ত আসানসোল গড়তে এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলে জানান তিনি।বিধায়ক আরো বলেন, মানুষের যাতে দীর্ঘমেয়াদি অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়টিও প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যাগুলি অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয় এবং শহরবাসীর যাতায়াতের সমস্যা কতটা কমে, এখন সেদিকেই নজর আসানসোলের সাধারণ মানুষের ।

