আসানসোলের জিটি রোডে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা চলছে না সংসার, কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালকদের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের জিটি রোডে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকেই চরম সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন এলাকার শতাধিক টোটো চালকরা। আসানসোলের জিটি রোডের উষাগ্রাম থেকে সাতাইশা পর্যন্ত টোটো চলাচলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।মঙ্গলবার সকালে সাতাইশা এলাকার টোটো চালকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, আমাদের কাজ বা রোজগারের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের বক্তব্য, টানা ছয় দিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় রোজগার বন্ধ। সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ চালকদের। শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তারা।













এদিন রাস্তায় নামা টোটো চালকেরা বলেন, মনে হচ্ছে যেন কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য এই নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। আমরা যদি এই এলাকায় থাকি, তাহলে আমাদের কি দোষ ? বলা হচ্ছে জিটি রোডে টোটো চালানো যাবে না। কিন্তু আমাদের এদিকে তো জিটি রোড। নিয়ম তো সব জায়গার জন্য সমান হওয়া উচিত। গোটা বাংলার জন্য একই হওয়া উচিত। আমরা এই এলাকায় থাকি বলে এটাই কি আমাদের অপরাধ?তিনি আরো বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও ধর্না আন্দোলন করিনি।
আমরা শুধু চাইছি শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সমস্যার সমাধান হোক। যেমন আগে চালাতাম, তেমনই চালাতে দেওয়া হোক। যাতে আমরা পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারি। আমরা রাস্তায় নামতে চাই না। এদিন রাস্তায় যারা দাঁড়িয়ে আছে, সবাই গরীব মানুষ। কেউ বড়লোক নই। আমরা কেউ সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি।চালকদের বক্তব্য, আমরা গত ৬ দিন ধরে বসে আছি। সবাই বেকার হয়ে গেছি।
কারো কারোর কাছে ওষুধ কেনার টাকাও নেই। ৬ দিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় কোনও রোজগার নেই। বাচ্চাকে ভাড়া দিয়ে স্কুলে পাঠাতাম। নিজের গাড়ি থাকতেও এখন বাচ্চারা স্কুল যেতে পারছে না। টিউশন, স্কুলের খরচ আছে। আমরা রোজগার না করলে সংসার চলবে কি করে?তবে, এই সমস্যা শুধু এই সাতাইশা এলাকার তেমনটা নয়। আসানসোলের হটন রোড, এসবি গড়াই ও বার্নপুর রোড, সেনরেল রোডের মতো যেসব রাস্তায় টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও ওয়ান ওয়ে করা হয়েছে, সেখানে এমনই একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
টোটো চালকেরা শুধু নন, সাধারণ মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যে রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে যেতে ১০ মিনিট লাগতো, তা এখন বেড়ে আধঘন্টা হয়েছে। ভাড়ার টাকা দ্বিগুণ হয়েছে। এইসব এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, এর দায় কেউ নিতে চাইছে না। শাসক দল বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা করেছে পুলিশ প্রশাসন। আর পুলিশ প্রশাসন দায় ঝেড়ে ফেলে বলছে, মন্ত্রীর তরফেও নির্দেশ আসার পরে, সেই মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

