ওয়ান-ওয়ে ও টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আসানসোল যানজট মুক্ত করার ভাবনা একাধিক বিকল্প রুটের ঘোষণা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* আসানসোল শহরের যানজট মুক্ত করতে ও ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হটন রোডে ওয়ান-ওয়ে করা এবং জিটি রোডে, বার্নপুর রোড ও সেনরেল রোড সহ একাধিক রাস্তায় টোটো ও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে কার্যত সমালোচনার মুখে পড়েছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক গার্ড। কোনরকম আগাম বিকল্প কিছু না করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করায় হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তৈরি হয়েছে ক্ষোভ । সমাজ মাধ্যমে মন্ত্রী, বিধায়ক ও পুলিশ আধিকারিকদের অদূরদর্শীতা নিয়ে সরব হয়েছেন অনেক মানুষ।













এইসব এলাকার মানুষদের অসুবিধার কথা না ভেবে, তারা নিজেদের মস্তিষ্কপ্রসূত অবাস্তব ভাবনা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দারা বলছেন। এইসব এলাকার বাসিন্দারা ওয়ান ওয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা নিজেদের গাড়ি নিয়ে কি করে বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন বা অন্য কোথাও যাবেন, তা ভাবাই হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানাতে ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমেছেন টোটো চালকেরা।
শেষ পর্যন্ত গোটা পরিস্থিতি সামাল দিতে ও টোটো চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধানে একাধিক বিকল্প রুটের কথা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।বৃহস্পতিবার আসানসোলের সার্কিট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রস্তাবিত রুটগুলি তুলে ধরেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( ট্রাফিক) জাধাওয়ার অবিনাশ ভীমরাও ,আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসক তথা কমিশনার দিলীপ মিশ্র। মন্ত্রী এদিন টোটো চালকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রুট পরিবর্তনের কারণে সমস্যার কথা টোটো চালকদের একাংশ তাঁকে জানিয়েছিলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। তবে ওয়ান-ওয়ে বা টোটোর রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁর নয় বলেও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রীর বক্তব্য, কোন রাস্তা ওয়ান-ওয়ে হবে বা কোন রুটে টোটো চলবে, তা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও প্রশাসনের বিষয়। অনেকে বলছেন আমি এইসব করেছি। এদিনের আলোচনার পরে টোটো চালকদের জন্য কয়েকটি বিকল্প পথের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সম্মতি মিলেছে বলে জানান অগ্নিমিত্রা পাল।নতুন রুটে যাত্রী পাওয়া নিয়ে টোটো চালকদের উদ্বেগের কথাও উঠে আসে সাংবাদিক সম্মেলনে।
অগ্নিমিত্রা জানান, নতুন রুট সম্পর্কে চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও জানানো হবে। কোথা থেকে টোটো পাওয়া যাবে এবং কোন পথে টোটো চলবে, তা প্রচারের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।টোটোর রুটের পাশাপাশি কোর্ট মোড়ে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড তৈরির কথা এদিন বলেন অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল পুরনিগমের নতুন নকশায় তৈরি হওয়া বাসস্ট্যান্ডের আদলে কোর্ট মোড়েও এমন ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা কমিশনার দিলীপ মিশ্রের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থাকলে যাত্রীদের রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। একই সঙ্গে টোটো দাঁড় করানো, যাত্রী ওঠানামা এবং যান চলাচলের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আমার বিধানসভার মানুষের দায়িত্ব আমার। সেই কারণে আমি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। একটা সমাধান বার করা হয়েছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে টোটো চালকদের দূর্ব্যবহার ও বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রী পুলিশ আধিকারিকের সামনে টোটো চালকদের এই নিয়ে সতর্ক করেন। হটন রোডে ওয়ান-ওয়ে ব্যবস্থা বজায় রেখেই বিকল্প পথে টোটো পরিষেবা সচল রাখার এই উদ্যোগে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও চালকদের সমস্যা কতটা কমে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

