ASANSOL

জেলাশাসকের বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমানে অবশেষে কাটলো বালি-জট, চালু হচ্ছে বৈধ ঘাট, ট্রাক্টর প্রতি দাম ১২০০ টাকা চূড়ান্ত

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* শেষ পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বালি-জট কাটার পথে। বৃহস্পতিবার আসানসোলে জেলাশাসকের দপ্তরে বালি জট কাটাতে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠক জেলার বৈধ বালিঘাটগুলি অবিলম্বে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বৈঠকে ট্রাক্টর প্রতি বালির দাম ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি দাম কোনও বালিঘাট মালিক নিতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বালি উত্তোলন ও পরিবহণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি চালানো হবে।

বৈঠকে জেলাশাসক এস পোন্নাবলম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুরের দুই বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, বেশ কয়েকজন বিধায়কের প্রতিনিধি, এডিএম, জেলার দুই মহকুমার মহকুমাশাসক, বিডিও, বিএলআরও সহ বালিঘাট মালিকরা।এই বৈঠকের পরে জেলাশাসক বলেন, এদিন আলোচনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন বালি পরিবহনে ইচ্ছুক ট্রাক্টরগুলির রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানো হবে।

এর দায়িত্ব বিডিও এবং বিএলআরওকে দেওয়া হয়েছে। জেলার সব ব্লকে ঘাট নেই। যেমন, অন্ডাল ব্লকে কোনো ঘাট নেই। এর পাশাপাশি আসানসোল পুরনিগমে ও দুর্গাপুর নগর নিগম এলাকায় কোনো বৈধ ঘাট নেই। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। যেখানে ঘাট নেই, সেখানে বালি মজুত কেন্দ্র তৈরি করা যায় কিনা, তা নির্ধারণ করতে রাজ্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটারের বেশি দূরে মজুত কেন্দ্র তৈরি করা যায় না। তবে বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চাওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দাম দেখার জন্য পালাক্রমে ঘাট-ভিত্তিক আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। যেসব ঘাটে সিসিটিভি নেই, সেখানে সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাক্টরের জন্য ঘাট ফি ১,২০০ টাকার বেশি হবে না। এর অর্থ হলো, ঘাটের ইজারাদাররা এই দামে ট্রাক্টরে বালি সরবরাহ করবেন।

প্রশাসন চূড়ান্ত বাজার দরও ঠিক করবে। বিডিও এবং বিএলআরও সমন্বয় রেখে আবাসন প্রকল্প, স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পের মতো সরকারি প্রকল্পগুলির জন্য বালি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেবেন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, বর্তমানে এই জেলায় ১৫টি ঘাট চালু রয়েছে। আরও ১২টি নতুন ঘাট পরিবেশগত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে। এই ১২টি ঘাট চালু হয়ে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্ষার মরশুম শেষ হলে সেগুলি পুনরায় খোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন , সরকারি প্রকল্পের জন্য বালির কোনো ঘাটতি নেই। বিডিও এবং বিএলআরও ইজারাদারদের সঙ্গে নিরন্তর সমন্বয় ও সহযোগিতা করছেন। আবহাওয়া ঠিক হলেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে। যার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭-৮ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর ১০ দিনের মধ্যে সব রাস্তার মেরামত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলায় বালির সংকটের কারণে পুরো নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছিলো। গোটা বিষয়টিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হস্তক্ষেপ করেন। তার নির্দেশেই এদিন জেলাশাসক বালির দাম ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে একটি বৈঠক করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *