ASANSOL

আসানসোলে ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্মেলন

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে বুধবার ভারতীয় জনতা মজদুর। সেলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্মেলন হয়। সেলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটি এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলো। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি বলেছিলেন, দলের কোনও ট্রেড ইউনিয়ন থাকবে না। সেই বক্তব্যের পরেও শ্রমিক সংগঠনের জেলা সম্মেলন কি করে আয়োজন করা হয়েছে? এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এদিন তারই ব্যাখ্যা দিতে মুখ খুললেন বিজেপির শ্রমিক নেতা অর্ণব চট্টোপাধ্যায়।এক সাক্ষাৎকারে অর্ণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যে কথাটা বলেছেন, সেটা সঠিক কথাই বলেছেন।

ভারতবর্ষের সংবিধানে ১৯২৬ সালে ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট তৈরি হয়েছিল। তখন কোনও রাজনৈতিক দল তৈরি হয়নি। দেশ স্বাধীন হয়নি। দেশের সংবিধানও লেখা হয়নি। তখন থেকেই ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ কোনও রাজনৈতিক দলের ট্রেড ইউনিয়ন হয় না। তেমনই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির কোনও ট্রেড ইউনিয়ন নেই।তিনি দাবি করেন, বিজেপির কর্মী হিসেবে শ্রমিকদের এক ছাতার তলায় আনার লক্ষ্যেই তারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনের কাজ করে আসছেন।

তার কথায়, আমরা যারা ভারতীয় জনতা পার্টি করি। আমরা দলের কার্যকর্তারা শ্রমিককে একটা ছাতার তলায় আনার জন্য ২০০৯ সাল থেকে, যাতে পশ্চিমবাংলায় বিজেপি সরকার হয়, তার জন্য শ্রমিক সংগঠন করতাম। শ্রমিকদের যারা শোষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পশ্চিমবাংলায় সরকার গঠনের লক্ষ্য ছিল।অর্ণবের বক্তব্য, ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁদের লক্ষ্য।

সেই কারণেই ২০০৯ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের কাজ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, আমরা বিজেপিকে সমর্থন করি। কারণ আমরা প্রত্যেকে বিজেপির কার্যকর্তা। ট্রেড ইউনিয়ন করি বিজেপির কার্যকর্তা হিসেবে। এদিন অনুষ্ঠানের মঞ্চে কোনও বিধায়ক কটূক্তি করেছেন—এমন অভিযোগও ওঠে।

সেই অভিযোগ অস্বীকার করে অর্ণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি কোনও বিধায়ককে নিয়ে কথা বলছেন না। তবে তাঁর কথায়, কেউ বা কারা যদি ভেবে থাকে শিবদাস বাউরিকে দমাবো, তাহলে সে ভুল করছে। তিনি আরও দাবি করেন, তপন শিকদার রাজ্য সভাপতি এবং টেলিকম মন্ত্রী থাকার সময় থেকেই এই শ্রমিক সংগঠন চলে আসছে। তাঁর বক্তব্য, ট্রেড ইউনিয়ন একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ল-এর সাবজেক্ট, ইন্ডাস্ট্রি ল, সার্ভিস ল, ইকোনমিক্স।

ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট, কাউকে দমানো যায় না।ফলে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত থেকেও শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম চালানো নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যাখ্যায় অর্ণব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এল, দলের নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন নেই। তবে বিজেপি সমর্থক শ্রমিকদের সংগঠিত করার জন্য ভারতীয় জনতা মজদুর সেল তৈরি হয়েছে ও তারা সেই পথেই কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *