পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাইক চালকের , ক্ষতিপূরণের দাবিতে সালানপুর থানায় দেহ রেখে পরিবারের বিক্ষোভ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পথ দুর্ঘটনায় এক মোটরবাইক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল সালানপুর থানা এলাকায়। ঘাতক গাড়ির মালিকের উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে থানা চত্বরে সোমবার মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, মৃত মোটরবাইক চালকের নাম সন্তোষ লায়েক। তিনি সালানপুর থানার অন্তর্গত ধাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি নিজের মোটরবাইক চেপে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।













সালানপুরের মেলেকলা মোড়ের কাছে পেছন থেকে একটি কালো রঙের ‘ভার্না’ চারচাকা গাড়ি এসে তাঁর মোটরবাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সন্তোষবাবুর। তবে জানা গেছে,দুর্ঘটনার পরই তাকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
তাঁদের অভিযোগ, সালানপুর থানা থেকে ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন সেখানে সন্তোষবাবুর নিথর দেহ পড়ে ছিল। কিন্তু সেখানে সেই সময় ছিলেন না কোনো পুলিশ কর্মী ।পরিবারের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ঘাতক গাড়িটিতে দুজন মদ্যপ মহিলা ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরে পুলিশ গাড়ি সহ দুই মহিলাকে আটক করে।
কিন্তু পরে রহস্যজনকভাবে পুলিশ ঐ দুই মহিলাকে ছেড়ে দেয় বলে দাবি পরিবারের।এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হন পরিবার ও ধাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, গাড়ির মালিককে সরাসরি থানায় এসে মৃতের পরিবারের সাথে কথা বলতে হবে এবং ঘটনার উপযুক্ত সমাধান ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
যতক্ষণ না পর্যন্ত গাড়ির মালিক এসে মীমাংসা করছেন, ততক্ষণ মৃতদেহ থানায় রেখেই এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েদেন আন্দোলনকারীরা।এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালানপুর থানা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কথা বলে পুলিশের তরফে তাদেরকে বারবার বলা হয় হয় অভিযোগ করার জন্য। পরে, পুলিশের তরফে আশ্বাস পাওয়ার পরে বিক্ষোভ উঠে যায়।

