আসানসোল জুড়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা, উমার বিদায়বেলায় আনন্দের মাঝে বিষাদের সুর
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর শেষ দিন বুধবার বিজয়া দশমী সিঁদুর খেলায় লাল হয়ে উঠল আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ। আসানসোল, কুলটি, বরাকর, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি, সালানপুর ও রূপনারায়ণপুর সহ গোটা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন দুপুরের পর সিঁদুর খেলাকে ঘিরে মহিলাদের মধ্যে দেখা গেল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। কোথাও শাঁখের ধ্বনি, কোথাও উলুধ্বনি, আবার কোথাও ঢাকের তালে আনন্দে মেতে উঠলেন মহিলারা। তবে উৎসবের এই আনন্দের মধ্যেই উমার বিদায়বেলায় অনেকের চোখে ধরা পড়ল বিষাদের ছাপ।প্রচলিত রীতি মেনে বিজয়া দশমীর সকালে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর পরিয়ে, পান ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করেন বিবাহিত মহিলারা।













দেবীর কাছে পরিবারের মঙ্গল ও সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে শুরু হয় সিঁদুর খেলা। এরপর একে অপরের কপালে সিঁদুর লাগিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তাঁরা। লাল সিঁদুরে রঙিন হয়ে ওঠে মণ্ডপ চত্বর। আনন্দের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতেও ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় অনেককে।আসানসোল গ্রামের নয়টি পুজো মণ্ডপ থেকে শুরু করে কুলটি, বরাকর ও রানিগঞ্জের পারিবারিক পুজো প্রাঙ্গণেও এই চিরাচরিত বাঙালি রীতিকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
জামুড়িয়া, বারাবনি, সালানপুর ও রূপনারায়ণপুর এলাকাতেও দশমীর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলে। পুজো কমিটির সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মণ্ডপে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।সিঁদুর খেলা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই রীতির মধ্য দিয়ে মহিলারা পরস্পরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন, সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করেন এবং একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান। অনেক মণ্ডপে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও মিলনমেলার ছবিও ধরা পড়ে।তবে দশমীর এই রাঙা মুহূর্তের আড়ালেই ছিল বিদায়ের বেদনা।
চার দিনের উৎসব শেষে মা দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে—এই ভাবনায় আনন্দের মধ্যেও মন ভারী হয়ে ওঠে ভক্তদের। সিঁদুর খেলা শেষে দেবীকে শেষবারের মতো প্রণাম জানিয়ে আগামী বছর আবার ফিরে আসার প্রার্থনা করেন তাঁরা।সিঁদুরের রঙে রাঙা আসানসোল শিল্পাঞ্চল এদিন যেন একসঙ্গে উচ্চারণ করল বাঙালির চিরন্তন আবেগ “আসছে বছর আবার হবে, আবার এসো মা “।

