জামুড়িয়ায় ইসিএলের কোয়ার্টার থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাসিন্দাদের আন্দোলন, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কাজ বন্ধ
*বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* ইসিএলের কোয়ার্টারে দীর্ঘ ৭০/৮০ বছর ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে আন্দোলনে নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতি এবং কুয়ারডিহি গ্রাম রক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে ইসিএল মাইনস প্রাইভেট লিমিটেড ও রেশমি গ্রুপের যৌথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রকল্পের জায়গায় জেসিবি দিয়ে খননের কাজ শুরু হতেই বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।













পরে দু’পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত হয়।আন্দোলনকারীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা ইসিএলের কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। ফলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অন্যায়। তাঁদের অভিযোগ, এই সমস্যা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতির নেতা সুমন্ত বাউরি জানান, ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।

সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায়, তার জন্য তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলবে, কিন্তু বাসিন্দাদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ইসিএল মাইনস প্রাইভেট লিমিটেড ও রেশমি গ্রুপের যৌথ প্রকল্পের ভূমিপুজো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডঃ বিজন মুখোপাধ্যায় এবং একাধিক আধিকারিক।
ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে বিধায়ক বলেছিলেন, ইসিএলের কোয়ার্টারে অবৈধভাবে বসবাসের ভিত্তিতে ক্ষতিপূররণ দাবি করা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিধায়ক হিসেবে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে টাকা দিয়ে কিছু মানুষ কোয়ার্টারে থাকতে এসেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।বিধায়কের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে সুমন্ত বাউরি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিলো।
অথচ তাঁর দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি ইসিএলের শুরুর সময় থেকেই সেখানে বসবাস করছে। তাই এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।প্রকল্পের প্রধান প্রমোদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা করতে এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনায় বসতে কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই প্রস্তুত। গ্রামবাসীদের সম্মতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
কারও বক্তব্য উপেক্ষা করা হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।বিক্ষোভের পর আলোচনা হওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে কয়েক দশক ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ কি হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

