ASANSOL

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ‘স্মার্ট’ অবৈধ লটারি ! টিকিটের গণ্ডি পেরিয়ে অনলাইন বুকিংয়ে ফুলে ফেঁপে উঠছে সিন্ডিকেট

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্নীতি ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস বারবার মিললেও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও রমরমিয়ে চলছে অবৈধ ‘ঝাড়খণ্ড লটারি’ চক্র। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই কারবার এখন শুধু কাগজের টিকিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট বলে অভিযোগ।স্থানীয় সূত্রের দাবি, সালানপুরের দেন্দুয়া, জেমারি, রূপনারায়ণপুর থেকে কুলটি, চৌরঙ্গী মোড়, কল্যাণেশ্বরী ও নিয়ামতপুর, আসানসোল শহর সহ গোটা শিল্পাঞ্চলের একাধিক এলাকায় এখনও প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ লটারির ব্যবসা।

সরকারি অনুমোদিত লটারির ফলাফলকে ভিত্তি করে প্রতিদিন কয়েক দফায় খেলানো হচ্ছে এই বেআইনি খেলা।উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ অবৈধ লটারির কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করে। ঐ ঘটনায় পুলিশের সক্রিয়তার ছবি সামনে এলেও শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও এই ব্যবসা বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা কি শুধুই চক্রের নিচুতলার সদস্য? নাকি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে এই সিন্ডিকেটের মূল মাথারা ?নানা সূত্রের মাধ্যমে উঠে এসেছে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই কাগজের টিকিটের পরিবর্তে মোবাইল ভিত্তিক বুকিংয়ের উপর জোর দিচ্ছে চক্র। ক্রেতারা হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য ডিজিটাল মাধ্যমে নম্বর পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতাদের কাছে।

সেই নম্বর নথিভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। ফলাফল মিলে গেলে অর্থ লেনদেনও হচ্ছে গোপনে। ফলে হাতে কোনও টিকিট বা দৃশ্যমান প্রমাণ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকেই।স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা যেমন ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক নজরদারি এড়ানোর পথও খুঁজে নিয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এই ব্যবসা চললেও মূল হোতারা এখনও অধরা কেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।পুলিশ সূত্রে দাবি, অবৈধ লটারির বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক গ্রেফতারি সেই অভিযানেরই অংশ। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, বিচ্ছিন্ন গ্রেপ্তার নয়, গোটা সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতেই হবে।শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের কথায়, কাগজের টিকিট থেকে ডিজিটাল বুকিং রূপ বদলালেও অবৈধ লটারির দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং প্রযুক্তির হাত ধরে তা আরও ‘স্মার্ট’ এবং আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসনের অভিযান শুধু নিচুতলার কারবারিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এই অবৈধ ব্যবসার নেপথ্যের আসল মাথাদেরও আইনের আওতায় আনা হয়।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *