Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Bengal Mirror
ASANSOLKULTI-BARAKAR

কুলটিতে নর্দমা থেকে ইসিএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর দেহ উদ্ধারের ঘটনা খুনের অভিযোগে গ্রেফতার অশোক নুনিয়া

*বেঙ্গল মিরর, নিয়ামতপুর ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এলাকার ড্যাডি গ্রাউন্ড সংলগ্ন একটি নর্দমা থেকে ইসিএলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তথা টহরম কারখানা এলাকার বাসিন্দা অপরাধ বাউরি (৬১)-র দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অশোক নুনিয়াকে শুক্রবার রাতেে গ্রেফতার করেছে। শনিবার ধৃতকে আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফে। পুলিশ সূত্রে খবর, অপরাধ বাউরি বেজেডি কোলিয়ারি থেকে প্রায় দু’মাস আগে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড্যাডি গ্রাউন্ড এলাকার একটি নর্দমা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতের মেয়ে আশা বাউরির অভিযোগ, তাঁর বাবা ড্যাডি গ্রাউন্ড এলাকার বাসিন্দা অশোক নুনিয়ার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অশোক নুনিয়া সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং প্রায়ই অপরাধ বাউরিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মদ্যপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়াতেন।পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিনও অশোক নুনিয়া অপরাধ বাউরিকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন খোঁজাখুঁজির সময় অশোক নুনিয়াই পরিবারের সদস্যদের জানান যে অপরাধ বাউরি নর্দমার মধ্যে পড়ে রয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কাদামাখা অবস্থায় দেখতে পান।ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার সন্ধ্যায় টহরম কারখানা সংলগ্ন নিয়ামতপুর-ইস্কো রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি ছিল, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।খবর পেয়ে এসিপি (কুলটি) জাভেদ হুসেনের নেতৃত্বে কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ আধিকারিকরা পরিবারের সদস্যদের যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।এরপর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অশোক নুনিয়াকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর নেপথ্যের রহস্য এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার আসানসোল জেলা হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করা হবে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুলটির নিয়ামতপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *