ASANSOL

Auto Draft

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের ইসমাইলে বেঙ্গল হোমিওপ্যাথি কলেজে সবুজ ধ্বংস করা নিয়ে সরব হলেন এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মীরা। অভিযোগ ৪২ টি দামী ও মূল্যবান গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। অনিল মিশ্র, বিশ্বনাথ মিত্রের মতো সমাজকর্মী সহ এলাকার বাসিন্দারা গোটা বিষয়টি নিয়ে হিরাপুর থানা ও বন দপ্তর ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর প্রতিলিপি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনিল মিশ্র ও বিশ্বনাথ মিত্ররা মঙ্গলবার কলেজে সরেজমিনে গিয়ে এই ধ্বংস লীলা দেখেছেন।

এই প্রসঙ্গে বিশ্বনাথবাবু ও অনিলবাবুরা বলেন, যা দেখলাম তাতে চোখে জল এসে গেল। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে এইসব গাছ লাগিয়েছিলাম। কলেজ প্রাঙ্গণ দূষণবিরোধী গাছে ভরা ছিল। অংকুর থেকে বেড়ে উঠা সেগুন, শাল গাছগুলো আকাশ ছুঁয়েছিল। সেই ৪২টি দূরমূল্য গাছ কাটার ফলে আজ অনেকাংশটাই পুরো ন্যাড়া। যেন পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছে সাজানো বাগানের উপর। জুলাই মাসের প্রথম শনিবার ও রবিবার এইসব গাছ কাটা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, কে বা কারা করল এই কাজ? কলেজের প্রিন্সিপাল রামকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য আমাদের বলছেন, “আমি কিছু জানি না”।

তবে কলেজের অধ্যাপকদের একাংশ বলছেন, “স্যার সব জানেন”। বাস্তবিক এটাই যে প্রিন্সিপালকে অন্ধকারে রেখে এই কাজ করা হয়েছে। এর পেছনে কলেজেরই বেশ কয়েকজন আছে বলে অভিযোগ। যারা প্রিন্সপালকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছেন। এও শোনা যাচ্ছে, কলেজের ভিতরে একটি শক্তিশালী লবি কাজ করে। যারা একটা সময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রীর অনুগামী ছিলেন বলে অভিযোগ । তাহলে এই অপরাধের মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা তা খুঁজে বার করা হোক।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রিস ( প্রোটেকশন এন্ড কনভারসেশন ইন নন-ফরেস্ট এরিয়া) আইন ২০০৬ অনুযায়ী বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা বেআইনি। তারা দাবি করেন, এটা শুধু গাছ কাটা নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যতের অক্সিজেন কেটে ফেলা। আমরা ইতিমধ্যে একটা অভিযোগ প্রধান বন সংরক্ষক, আসানসোল জমা দিয়েছি। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও হিরাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছেও এর প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে।

আমরা এই সবুজ ধ্বংস করার পেছনে যারা আছে সেই দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বৃক্ষরোপণ চাই।এই প্রসঙ্গে কলেজের প্রিন্সিপাল এদিন বলেন, আমি চার জায়গায় লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করেছি। বন দপ্তর ও পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, এলাকার বাসিন্দা ও কলেজের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তা তদন্ত করে ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *