ASANSOL

মন্ত্রীত্বের ব্যস্ততার মাঝেও স্টেথোস্কোপ হাতে মন্ত্রী ! ডক্টরস ডে”তে দেখলেন শতাধিক রোগী

*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* প্রশাসনিক দায়িত্বের ব্যস্ততার মাঝেও চিকিৎসকের পরিচয় ভুলে যাননি তিনি। মন্ত্রীত্বের কাজের ফাঁকেই সময় পেলেই রোগী দেখেন। বুধবার জাতীয় চিকিৎসক দিবস বা ন্যাশানাল ডক্টরস ডে উপলক্ষে মানবসেবার সেই অঙ্গীকারকে আরও একবার বাস্তবে রূপ দিলেন রাজ্যের পিডব্লিউডি ( পূর্ত) ও পিএইচই ( জনস্বাস্থ্য কারিগরি) দফতরের মন্ত্রী তথা কুলটির বিজেপি বিধায়ক চিকিৎসক ডাঃ অজয় পোদ্দার। এদিন তাঁর উদ্যোগে একটি বৃহৎ আকারে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। যেখানে শতাধিক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।প্রখ্যাত চিকিৎসক ও পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে পালিত জাতীয় চিকিৎসক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ডাঃ পোদ্দার বলেন, চিকিৎসা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার এক মহান ব্রত।

মানুষের সেবাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। মন্ত্রী হওয়ার পরও সেই দায়িত্ব থেকে তিনি সরে আসেননি। প্রশাসনিক ব্যস্ততার ফাঁকে যখনই সময় পান, তখনই রোগীদের চিকিৎসা করেন।দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খুব কাছ থেকে মানুষের অসহায়তা, দারিদ্র্য এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা সমস্যার সাক্ষী হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজও মানুষের পাশে থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁর মতে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উন্নয়নের কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই একজন চিকিৎসকের কাছে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সমান দায়িত্বের।ডাঃ পোদ্দার আরো বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা করা।

রোগী কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক, কোন ধর্ম বা জাতির মানুষ কিংবা তাঁর আর্থিক অবস্থা কি, এসব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে চিকিৎসার জন্য আসা প্রতিটি মানুষই প্রথমে একজন রোগী। তাঁকে সুস্থ করে তোলাই একজন চিকিৎসকের সর্বোচ্চ ধর্ম।তিনি বলেন, সুযোগ পেলেই রোগী দেখার পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা এবং গুরুতর রোগীদের সরকারি হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করি। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধাও যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেদিকেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।শিবিরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বহু মানুষ চিকিৎসা পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য এ ধরনের স্বাস্থ্য শিবির অত্যন্ত উপকারী। দীর্ঘদিন ধরে ডাঃ অজয় পোদ্দার চিকিৎসা পরিষেবা ও জনসংযোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলেও তাঁদের মত।ডক্টরস ডে’র তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঠাকুরের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন একজন চিকিৎসকের উপর। সেই বিশ্বাসকে অটুট রাখা প্রত্যেক চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব। চিকিৎসা শুধু রোগ সারানো নয়, রোগীর মনে সাহস ও ভরসা জাগিয়ে তোলাও একজন চিকিৎসকের কর্তব্য।

মানুষের সেবাই আমাদের ধর্ম।এই বিশেষ দিনে তিনি রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সকলকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি করোনা মহামারির সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।জাতীয় চিকিৎসক দিবসে ডাঃ অজয় পোদ্দারের এই উদ্যোগ ও বার্তা আবারও প্রমাণ করল, পদ বা ক্ষমতার চেয়ে মানুষের সেবা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রীত্বের ব্যস্ততার মাঝেও স্টেথোস্কোপ হাতে রোগীর পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কাছে প্রকৃত জনসেবার পরিচয়।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *