আসানসোলের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ বিজেপি নেত্রীর, চাঞ্চল্য
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের বিজেপি নেত্রী মধুমিতা চট্টোপাধ্যায় রবিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যান তথা ৮৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ডাঃ দেবাশিস সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন। তার মধ্যে দুর্নীতি ও বাড়িতে হামলা চালানোর বিষয় রয়েছে। এদিন মধুমিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন , ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডাঃ দেবাশিস সরকার তাঁর পদের অপব্যবহার করেছেন এবং ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। যে ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করতে পারেন না বলে পদত্যাগ করেছেন, তিনি তাঁর সারা জীবনে দুর্নীতি ছাড়া আর কিছুই করেননি।














মধুমিতা চট্টোপাধ্যায় তার এই অভিযোগের সমর্থনে কিছু নথি পেশ করেন। তিনি এও দাবি করেন, এই নথিগুলিতে ডাঃ দেবাশিস সরকারের দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ডাহ দেবাশিস সরকারের নেতৃত্বে ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় উঁচু নর্দমার কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে। তিনি ডঃ দেবাশিস সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করে বলেন , গত আসানসোল পুরনিগম নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ড গঠিত হয়।
এরপরে তার নির্দেশে আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছিলো। বোমা ছোঁড়া হয়েছিলো আমার ঘরে থাকা ছোট মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মধুমিতাদেবী দাবি করে বলেন, আমার কাছে সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছিল। তবে, এই বিষয়ে ডঃ দেবাশিস সরকার বলেন, যে দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, তার তদন্তের জন্য আমিই প্রথম আওয়াজ তুলেছিলাম।
এখন তার তদন্ত চলছে। তা আমার নিজের অনুরোধেই করা হচ্ছে। ডঃ দেবাশিস সরকার সরাসরি বলেন, মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়ের করা এই অভিযোগ একেবারে মিথ্যক। তিনি যে ১ কোটি ৭৩ মিলিয়ন টাকার কাজ দেখিয়ে বলেছেন, সেই কাজ করেননি। দেবাশীষবাবু ব্যাখ্যা দিয়ে, এটা একটা মিথ্যা অভিযোগ। ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানেই স্থানীয় লোকজনেরা কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, সেখানেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে, তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমার মেয়াদকালে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বর্তমানে যে তদন্ত চলছে তা তা আমার নির্দেশেই হচ্ছে। আমি যেকোনো তদন্তের জন্য প্রস্তুত এবং প্রতিটি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবো। তিনি আরও বলেন যে, মধুমিতা চট্টোপাধ্যায় এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকাকালীন যেভাবে কাজ করা হয়েছিল, তাও তদন্তাধীন রয়েছে। গোটা বিষয়টি আসানসোল পুরনিগমের বিচারাধীন আছে। আশা করি তারও তদন্ত সমান ভাবে হবে।


