বিপত্তারিণী পূজোয় জাতপাতের অভিযোগে মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অন্ডালে, থানায় বিক্ষোভ, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলো অভিযুক্ত পরিবার.
*বেঙ্গল মিরর, অন্ডাল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিপদতারিণী পূজোর দিন শনিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের দক্ষিণ খন্ড কালীবাড়ি বা মন্দিরে জাতপাতের কথা বলে এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে বাউরি সমাজের মানুষকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো। জাতপাতের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি চরম বিতর্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রবিবার এই ঘটনার প্রতিবাদ পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতির সদস্য অন্ডাল থানায় বিক্ষোভ দেখান। শেষ পর্যন্ত পুলিশের চাপে অভিযুক্ত কবিবাজ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। জানা গেছে, অন্ডালের দক্ষিণ খন্ড গ্রামের কবিরাজ পরিবারের এক বৃদ্ধা শনিবার বিপত্তারিণী পুজো বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষকে গ্রামের কালি মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেন।














এর প্রতিবাদ করতে গেলে বাউরি সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়াঙ্কা বাউরির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও উঠে।এই ঘটনার জেরে রবিবার বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতি অন্ডাল থানার সামনে তীব্র বিক্ষোভে সামিল হয়। বিক্ষোভের চাপে অভিযুক্ত বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে নিজেদের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।এই প্রসঙ্গে কবিরাজ পরিবারের সদস্য কৌশিক কবিরাজ ও বৃদ্ধা বলেন, আমাদের এইভাবে বলাটা ভুল হয়ে গেছে। বৃদ্ধা বলেন, আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আমার এই রকম কথা বলা উচিত। কৌশিকবাবু বলেন, মা’কে বলার পরেও, মা শোনেন।
কারোরই এমন কথা বলা উচিত নয়। বাউরি সমাজ শিক্ষা সমিতির তরফে মিলন বাউরি বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। বৃদ্ধার বয়সের কথা ভেবে আমরা কিছু করছি না। উনি ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন। ধর্মের নামে জাতপাতের এই অভিযোগ উঠার পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আজও কিছু মানুষ নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবেন? একবিংশ শতাব্দীতেও এমন অভিযোগ সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেই মনে করছেন এই ঘটনার প্রতিবাদকারীরা।অন্ডাল থানার পুলিশ জানায়, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। কথাবার্তায় বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে।


