টাকার টোপে নাবালকদের রক্তদান! আধার বদলের অভিযোগে চাঞ্চল্য দুর্গাপুরে, তদন্তের নির্দেশ অগ্নিমিত্রা পালের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল ও দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক ছাত্রদের দিয়ে রক্তদান করানো। এমনকি আধার কার্ডে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানোর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে। এই ঘটনায় বড়সড় একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দুর্গাপুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাবলিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেবযানি ঘোষ। বুধবার এই অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।














দেবযানি ঘোষ বলেন, গত শুক্রবার আমি জানতে পারি, আমার স্কুলের কয়েকজন ছাত্র দুর্গাপুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিয়েছে। বিষয়টি জানার পরদিনই স্কুলে প্যারেন্টস-টিচার্স মিটিং ডেকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। অধিকাংশ অভিভাবকই জানান, তাঁদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে, এ বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না।পরে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রত্যেক ছাত্রকে রক্ত দেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নতুন কোনও ছাত্রকে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা কমিশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। অভিযোগ, পুরো বিষয়টির সঙ্গে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী নামে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র জড়িত, যে দুর্গাপুরেরই একটি সরকারি স্কুলের পড়ুয়া। তার মাধ্যমে আরও নাবালকদের এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছিল এবং এর বিনিময়ে সে আরও বেশি টাকা পেত বলেও অভিযোগ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে প্রধান শিক্ষিকা দাবি করেন, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি ছাত্ররা কিভাবে হাসপাতালে রক্ত দিতে পারল? তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ছাত্রের আধার কার্ডে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে তাদের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের দেখানো হয়েছে। এক ছাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আরও কয়েকজনের আধার কার্ডেও একইভাবে কারচুপি করা হয়েছে।
তাঁর আশঙ্কা, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বড় সংগঠিত চক্র অংশ।এই ঘটনায় অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাঁর বক্তব্য, যদি একটি স্কুল থেকেই একাধিক ছাত্র এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে, তবে অন্য স্কুলের নাবালকরাও একইভাবে টার্গেট হতে পারে। অর্থের লোভ দেখিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের রক্তদান করানো অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি সতর্ক করেন।অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বার্নপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গেও কথা বলবো। তার কথায়, যদি সত্যিই ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সি ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে রক্ত নিয়ে তাদের ৩০০ টাকা এবং তাদের নিয়ে আসা ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।মন্ত্রী আরো বলেন, রক্তদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মানা বাধ্যতামূলক। আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নাবালকদের রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তিনি জানান, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গোটা বিষয়টি নিয়ে আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার বুধবার বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ নিয়ে দুর্গাপুরের ঐ হাসপাতালের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


