ASANSOL

আসানসোলে বিজেপির ” লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান” সভায় ‘কয়লা মাফিয়া’র উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক বার করে দিলো নেতৃত্ব

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বিজেপির ” লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান” কে ঘিরে শনিবার আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বদের নিয়ে আসানসোল রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত সভায় মহঃ আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপির জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রী নাজরিন সাবিয়া তাঁকে সভা থেকে বার করে দেন বলে জানা গেছে ।পরে নাজরিনের দাবি, দলের উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী এঃ সভায় নির্দিষ্ট কর্মী, মণ্ডল নেতৃত্ব, মোর্চা ও জেলা কমিটির সদস্যদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সভাস্থলে এসে তিনি দেখতে পান, মহঃ আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি বিজেপির ব্যাজ পরে সভায় বসে রয়েছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে ব্যাজ ও অন্যান্য নথি নিয়ে তাঁকে সভা থেকে বের করে দেন।নাজরিনের অভিযোগ, “সিন্ডিকেট বা মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বিজেপির সভায় ঢুকতে পারবেন না। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই তাকে বার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আনোয়ারকে আগে কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। তিনি বারাবনি এলাকার নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছিলেন।তবে পুরো ঘটনায় নিজের বক্তব্যও দিয়েছেন মহঃ আনোয়ার। তাঁর দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সভায় ঢোকেননি।

পিন্টু সাধু নামে এক বন্ধুর সঙ্গে আমি সভায় এসেছিলাম। ভিতরে ঢোকার আগে আমাকে নাম লেখাতে বলা হলে, আমি নিজের নামের রেজিস্ট্রেশন করি এবং ব্যাজ নিয়ে সভায় বসি।আনোয়ারের আরো বক্তব্য, আমি বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলাম। এখানে এসে নাম লিখাতে বলেছিল, তাই নাম লিখিয়েছি। আমার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। আমার এখানে আসাটা হয়তো উচিত হয়নি, তাই আমাকে বের করে দিয়েছে।নিজের পেশা প্রসঙ্গে আনোয়ার জানান, বর্তমানে তিনি পাথর ও ইটের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

বহু বছর আগে কয়লার ব্যবসা করেছিলেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে বর্তমানে কয়লার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি তাঁর।রাজনীতির প্রসঙ্গে আনোয়ার বলেন, আমি বিজেপিকে সমর্থন করি। ভবিষ্যতেও দলের প্রতি সমর্থন থাকবে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও অতীতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

নতুন সরকারের আমলে কাগজপত্র ঠিক থাকলে পাথর, বালি ও ইটের ব্যবসা করার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে বিজেপির তরফে ‘সিন্ডিকেট ও মাফিয়া’ যোগের অভিযোগ, অন্যদিকে আনোয়ারের তরফে নিজেকে ব্যবসায়ী ও বিজেপি-সমর্থক হিসেবে দাবি, দুই বক্তব্যই সামনে এসেছে।

ফলে লাভার্থী সম্পর্ক অভিযানের সভায় মহঃ আনোয়ারের উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।এদিনের সভায় বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, আসানসোল উত্তর, পান্ডবেশ্বর, জামুড়িয়ার তিন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জিতেন্দ্র তেওয়ারি ও ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায় সহ বিজেপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *